কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ১১ টার দিকে এক ভোটারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে মৃত্যু ঘটার অভিযোগ উঠে। ৫৫ বছর বয়সী রাজ্জাক মিয়া, আলাল উদ্দিন মিয়ার ছেলে, সকালবেলা নাশতা শেষে ভোট দিতে বেরিয়ে গিয়ে ভোটের কাজ শেষ করে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন। ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলামের বাড়িতে তিনি বসে ছিলেন, যেখানে এক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী গাড়ি থামিয়ে লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। গাড়ি থেকে নেমে কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার সময় রাজ্জাক মিয়া দৌড়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পড়ে যাওয়া রাজ্জাক মিয়াকে সঙ্গে সঙ্গে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর জানান, মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছানো হয় এবং তার দেহে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে হৃদরোগের কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে থাকা লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম মামুনুর রশিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পাওয়া যায়নি।
একই সময়ে খুলনা মহানগর জেলার আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি আরেকটি মৃত্যু ঘটেছে। ৬০ বছর বয়সী মহিবুজ্জামান কচি, যিনি পূর্বে খুলনা মহানগর বিএনপি দপ্তর সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন, সকাল ৯ টার দিকে ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রের ভিতরে ভোট চাওয়ার বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। বিএনপি অনুসারে, কচি ভোটের সময় জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থকদের দ্বারা ধাক্কা খেয়ে পড়ে এবং মাথায় আঘাত পান।
মহিবুজ্জামান কচি দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিবার ও সহকর্মীরা জানান, কচি ভোটের সময় কোনো সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেননি, তবে প্রতিপক্ষের লোকজনের ধাক্কা তাকে গিরগিটি করে দেয়। ঘটনাটির পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
দুইটি ঘটনার পটভূমিতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের তীব্রতা স্পষ্ট। ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে ‘ভুয়া’ স্লোগান প্রচার করা হয়েছে, যা ভোটের সময় উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। উভয় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচনী কমিশনকে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অধিক তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ও খুলনা উভয় জেলার পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগকে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি ও মেডিকেল রেকর্ড বিশ্লেষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উভয় ক্ষেত্রে কোনো অপরাধমূলক দায়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের যথার্থতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আইনি পর্যালোচনা চলমান।
ভৈরব ও খুলনা উভয় এলাকায় ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন ভোটের পরবর্তী পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে, ভোটারদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



