বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দানমন্ডি শীর্ষের প্রার্থী আব্দুল মঈন খান, বৃহস্পতিবার সকালে নরসিংদি-২ (পলাশ) উপজেলার চরনগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটদান শেষে গণতন্ত্রের প্রতি দেশের নাগরিকদের সচেতনতা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি ভোটের অধিকারকে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে তুলে ধরে, ভোট না দিয়ে থাকতে রাজি না থাকার কথা বলেন।
মঈন খান, যিনি নরসিংদি-২ (পলাশ) আসনে বিএনপি-র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, ভোটের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করে। আমরা না খেয়ে থাকতে রাজি আছি, কিন্তু ভোট না দিয়ে থাকতে রাজি নই।” এই বক্তব্যে তিনি দেশের নাগরিকদের ভোটের গুরুত্বকে জীবনের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে তুলনা করে তুলে ধরেছেন।
প্রার্থী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের উন্নতি সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “বিগত চারটি প্রহসন ও সাজানো নির্বাচনের পর আজ দেশের মানুষ সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে পারছে। ২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে এ সুযোগ তৈরি হয়েছে।” এই মন্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা আন্দোলনকে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মঈন খান নিজেকে রাজনৈতিক নেতা নয়, কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করছেন বলে জানান। “রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণে না আসে, তবে তার কোনো অর্থ নেই,” তিনি বলেন, যা তার রাজনৈতিক দর্শনকে জনগণের মঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত করে।
ভোট শেষ করার পর তিনি দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি আশা করেন, জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন হবে, যা দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে ত্বরান্বিত করবে। তার মতে, ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের শাসনব্যবস্থা নির্ধারণের সুযোগ পায়, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে, শাসনকারী আওয়ামী লীগও ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিচালনা ও নাগরিকদের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় পক্ষই ভোটের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথ সুগম করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
ভবিষ্যতে, ভোটের ফলাফল ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নজরে থাকবে। মঈন খান এবং অন্যান্য প্রার্থীরা ভোটের পরবর্তী পর্যায়ে কীভাবে তাদের রাজনৈতিক কৌশল গড়ে তুলবেন, তা দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের মূল সূচক হবে।



