গাইবান্ধা-৩ আসনের পলাশবাড়ী উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালবেলায় ভোটগ্রহণের সময় এক নারী আনসার সদস্যকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের কাছে জামাতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে বলার অভিযোগ উঠায়, ফলে তাকে কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগের সময় কেন্দ্রটি এ এস বি পি মহিলা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্র, যেখানে ভোটাররা ভোটের জন্য লাইন গঠন করছিল। ভোটগ্রহণের মাঝামাঝি এই ঘটনা ঘটার ফলে উপস্থিত ভোটার ও কর্মীদের মধ্যে অস্থায়ী বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
অভিযুক্ত নারী সদস্যের নাম শরিফা বেগম, যিনি পলাশবাড়ী উপজেলা আনসার ভিডিপি (ভোটার ড্রাইভার প্রোগ্রাম) এর সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। তার পদবী ও দায়িত্বের ভিত্তিতে তিনি ভোটকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরিফা বেগমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেন এবং বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পদক্ষেপের পরেও ভোটগ্রহণের কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন যে, শরিফা বেগম ভোটারদের সামনে জামাতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই অভিযোগের পর বিএনপি কর্মীরা কেন্দ্রে প্রতিবাদ জানিয়ে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রতিবাদের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত আনসার সদস্য দ্রুত কেন্দ্রে একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। এই সময়ে উপস্থিত ভোটার ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটার ব্যতীত অন্য সকলকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।
পরে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভোটকেন্দ্রের ভিতরে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করে। ভোটগ্রহণের কাজ স্বাভাবিকভাবে চালু থাকে এবং ভোটাররা নির্ধারিত সময়ে ভোট দিতে সক্ষম হন।
এই ঘটনার ফলে গাইবান্ধা জেলায় বিএনপি ও জামাত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলি এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি দাবি করছে।
ভবিষ্যতে স্থানীয় নির্বাচনী কমিটি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ভোটকেন্দ্রের কর্মীদের আচরণে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নির্দেশনা দিতে পারে। এছাড়া, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ভোটারদের স্বেচ্ছা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
সংক্ষেপে, গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর ভোটকেন্দ্রে নারী আনসার সদস্যের ভোট চাওয়ার অভিযোগে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, ভোটগ্রহণের কাজ কোনো বাধা ছাড়াই চলেছে এবং ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর অতিরিক্ত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



