সারা দেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলমান, এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা তার নিজস্ব গ্রাম শারিয়তপুরে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। ভোটের দিন তিনি নিজের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার ব্যবহার করেন এবং পরে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।
প্রভা জানান, ভোটের আনন্দ ও উত্তেজনা তাকে আগের রাতের নিদ্রা থেকে বঞ্চিত করেছে। তিনি বর্ণনা করেন, ভোটের পরিবেশটি যেন ঈদ উৎসবের মতো রঙিন ও প্রাণবন্ত, যা তাকে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তুলেছিল।
ব্যস্ত শুটিং শিডিউল এবং অন্যান্য পেশাগত দায়িত্বের মাঝেও তিনি গ্রামে গিয়ে ভোটদানকে তার নাগরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকের পরামর্শে ছুটির দিনটি বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারত, তবু তিনি দেশের ভবিষ্যতে এক ভোটের গুরুত্বকে স্বীকার করে শারিয়তপুরে উপস্থিত হন।
প্রভা তার ভোটের মাধ্যমে একটি সচেতন নাগরিকের ভূমিকা পালন করতে চেয়েছেন, যা তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ভোটদান কেবল একটি অধিকার নয়, বরং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রকাশ।
ভোটের দিনটি তার জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে তিনি বর্ণনা করেন, যা শৈশবের স্মৃতির মতোই মধুর ও আনন্দময়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার ভোটের মাধ্যমে তিনি যে পরিবর্তন দেখতে চান তা বাস্তবায়িত হবে।
প্রভা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। তিনি ৭১ শহীদদের চেতনা, ২১ ফেব্রুয়ারির আত্মিক সম্পর্ক, এবং জাতীয় উৎসবগুলোকে দেশের গর্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
বইমেলা, পহেলা ফাল্গুন, পহেলা বৈশাখের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোকে তিনি দেশের সমৃদ্ধি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখেন। এসব উৎসবের মাধ্যমে তিনি একটি সমন্বিত ও সৃজনশীল সমাজের স্বপ্ন বর্ণনা করেন।
প্রভা সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্বেও জোর দেন। তিনি চান, ধর্মীয় উৎসবগুলো কোনো বিরোধের কারণ না হয়ে, বরং সমঝোতা ও ঐক্যের সেতু হয়ে উঠুক।
একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ছোট ছোট অবদানই বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।
ভোটের দিন তিনি যে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা অনুভব করেছেন, তা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রেরণার উৎস হবে। তিনি আশাবাদী যে, দেশের তরুণ প্রজন্মও একই উদ্দীপনা নিয়ে ভোটের মাধ্যমে দেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে অংশ নেবে।
শারিয়তপুরে ভোটদান শেষে প্রভা তার পরিবার ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সামাজিক মিথস্ক্রিয়া তার জন্য অমূল্য এবং দেশের প্রতি তার ভালোবাসা আরও গভীর করে।
সামগ্রিকভাবে, সাদিয়া জাহান প্রভা ভোটের মাধ্যমে তার নাগরিক দায়িত্ব পালন করে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চেয়েছেন। তার উচ্ছ্বাস, দায়িত্ববোধ এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা দেশের জনগণের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।



