বগুড়া সদর উপজেলার থনথনিয়া নুরুল আলা নুর ফাজিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে আজ সকাল সাড়ে নয়টায় একই পরিবারের ছয়জন ভোটার একসঙ্গে ভোটের অধিকার ব্যবহার করেন। এদের মধ্যে চারজন প্রথমবারের মতো ভোটদান করেন, যা স্থানীয় ভোটারদের অংশগ্রহণের উচ্ছ্বাসকে তুলে ধরে।
পরিবারের সদস্যরা ভোটের জন্য একত্রিত হওয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত সকলের সমন্বিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা। রকিবুল হাসান (২৫) জানান, পরিবারে মোট বিশজন ভোটার একসাথে ভোট দিতে এসেছেন এবং ভোটের পরিবেশকে প্রশংসা করেছেন।
ছয়জনের মধ্যে নাইমুর রহমান (২৩), রকিবুল হাসান (২৫), সুমাইয়া আক্তার (২০) এবং ওয়ারেকাতুল জান্নাত (২৩) প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন। নাইমুর, যিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, বললেন তিনি প্রথম ভোটে কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন যে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারবেন কিনা, তবে কেন্দ্রে পৌঁছে কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছেন এবং ভোটের স্বচ্ছতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।
ওয়ারেকাতুল জান্নাত, সরকারী আজিজুল কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী, উল্লেখ করেন যে তিনি প্রথমবারের ভোটদানকে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ বলে অনুভব করেছেন এবং ভোটের পরিবেশকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি যোগ করেন, গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার হিসেবে ভোটের অধিকার কখনোই হরণ করা উচিত নয়।
সুমাইয়া আক্তার, ২০ বছর বয়সী, ভবিষ্যতে একই রকম স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটিং পরিবেশের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এমন পরিবেশের ধারাবাহিকতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
থনথনিয়া নুরুল আলা নুর ফাজিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৯৯৯। সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত প্রথম দুই ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ ভোট গৃহীত হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় পর্যায়ে বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২,৯৮১,৯৪০, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৪৮০,৮৭১ এবং নারী ভোটার ১,৫০১,০২৭। নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় ২০,১৫৬ বেশি, যা ১.৩৬ শতাংশের পার্থক্য নির্দেশ করে। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪২ জন নিবন্ধিত। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯৮৩, এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৫,৪৭৮।
এই ভোটদান প্রক্রিয়া দেশের সামগ্রিক নির্বাচন প্রেক্ষাপটে একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পরিবারিক সমন্বয় এবং প্রথমবারের ভোটারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ ভোটিং পরিবেশ বজায় রাখলে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং ফলস্বরূপ নির্বাচনের বৈধতা শক্তিশালী হবে।
পরবর্তী ধাপে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে ভোটার অংশগ্রহণের বিশ্লেষণ করা হবে। বিশেষত প্রথমবারের ভোটারদের অভিজ্ঞতা এবং পরিবারের সমন্বিত উপস্থিতি কীভাবে ভোটের প্রবণতাকে প্রভাবিত করবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের তথ্য ভবিষ্যৎ নির্বাচনী নীতি নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।
বগুড়া জেলার এই ভোটদান উদাহরণ দেখায় যে, ভোটারদের স্বেচ্ছাসেবী উপস্থিতি এবং ভোটিং পরিবেশের স্বচ্ছতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম।



