কোপেনহেগেন আন্তর্জাতিক ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র উৎসব CPH:DOX ২০২৬ এর প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রাম আজ প্রকাশিত হয়েছে। উৎসবটি ১১ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত তিন সপ্তাহ ধরে অনুষ্ঠিত হবে এবং মোট ৭৪টি চলচ্চিত্রকে ছয়টি বিচারকভিত্তিক বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই শিরোনামগুলো বিশ্বব্যাপী হাজারো জমা থেকে বাছাই করা হয়েছে।
বাছাই করা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ৫৩টি বিশ্বপ্রিমিয়ার, ১৭টি আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার এবং চারটি ইউরোপীয় প্রিমিয়ার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি কাজকে জটিলতা, অস্পষ্টতা এবং বাস্তব জীবনের মর্যাদা বজায় রাখার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ফেস্টিভ্যালে নতুন প্রযুক্তি এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাবকে কেন্দ্র করে ডকুমেন্টারির ভূমিকা তুলে ধরা হবে।
শিল্প পরিচালক নিকলাস এঙ্গস্ট্রোম উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক, নৈতিক এবং জ্ঞানীয় কাঠামো দ্রুত পরিবর্তনশীল, ফলে ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র কেবল পর্যবেক্ষণ নয়, বরং গভীর মনোযোগের স্থান হয়ে উঠছে। তিনি যোগ করেন, এই বছরের প্রতিযোগিতার চলচ্চিত্রগুলো সরলীকরণ ও ত্বরান্বিত বর্ণনা থেকে দূরে থেকে জটিলতা ও মানবিক অভিজ্ঞতার গৌরবকে সম্মান করে।
প্রোগ্রাম প্রধান মাডস কে. মিকেলসেনও বলেন, ডকুমেন্টারি একটি শিল্পরূপ এবং এই বছর তারা সমসাময়িক সময়ের সমস্যাগুলোকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপনকারী কাজগুলোকে উপস্থাপন করতে উচ্ছ্বসিত। তিনি ২১শ শতাব্দীর সিনেমার সম্ভাবনা, মানবিকতা, সংহতি এবং কবিতার স্বরে দর্শকের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।
উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে বেলজিয়ান পরিচালক পিয়ের-জান ডে পুয়ের ‘মারিন্কা’ বিশ্বপ্রিমিয়ার হিসেবে প্রদর্শিত হবে। এই ডকুমেন্টারিটি যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যে বেঁচে থাকা ইউক্রেনীয় মানুষের জীবনকে অনুসন্ধান করে এবং ফেস্টিভ্যালের সূচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
প্রতিযোগিতার ছয়টি বিভাগে অন্তর্ভুক্ত শিরোনামগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রথমে ‘এ সঙ উইদাউট হোম’ (নির্দেশনা: রতি তিসিটেলাদজে) বিশ্বপ্রিমিয়ার হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং জর্জিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উৎপাদন।
পরবর্তী শিরোনাম ‘আমাজোমানিয়া’ (নির্দেশনা: নাথান গ্রসম্যান) সুইডেন, ডেনমার্ক ও ফ্রান্সের সমন্বয়ে তৈরি এবং এটিও বিশ্বপ্রিমিয়ার। চলচ্চিত্রটি আধুনিক সমাজে প্রযুক্তি ও মানবিক সম্পর্কের জটিলতা অন্বেষণ করে।
‘আর্কটিক লিংক’ (নির্দেশনা: ইয়ান পার্নেল) সুইজারল্যান্ডের প্রযোজনা, যা আর্কটিক অঞ্চলের পরিবেশগত পরিবর্তন এবং স্থানীয় জনগণের জীবনের উপর কেন্দ্রীভূত। এই কাজটি আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার হিসেবে উপস্থাপিত হবে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শিরোনামগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ব্রেকিং দ্য সিলেন্স’, ‘ড্রিমস অফ দ্য সিটি’, ‘ইকোস অফ দ্য পাস্ট’ এবং ‘ফ্রন্টিয়ারস অফ হিউম্যানিটি’। প্রতিটি চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু সামাজিক, রাজনৈতিক বা পরিবেশগত সমস্যার গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করে।
ফেস্টিভ্যালের বিচারকমণ্ডলী আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা, সমালোচক এবং গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত। তারা প্রতিটি কাজের শিল্পগত মান, বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা এবং বর্ণনামূলক গুণমান বিবেচনা করে মূল্যায়ন করেন।
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি CPH:DOX ২০২৬ তে কর্মশালা, প্যানেল আলোচনা এবং বিশেষ প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হবে। এই ইভেন্টগুলো চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ দর্শকদের জন্য জ্ঞান বিনিময় এবং নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
উৎসবের আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন, এই বছর তাদের লক্ষ্য হল দর্শকদেরকে সমসাময়িক বিশ্বের জটিলতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং ডকুমেন্টারির মাধ্যমে সমালোচনামূলক চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করা। তারা আশা করেন, দর্শকরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন দৃষ্টিকোণ পাবে এবং সামাজিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারবে।
ফেস্টিভ্যালের টিকিট বিক্রি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগ্রহী দর্শকরা অনলাইন ও সরাসরি বিক্রয় কেন্দ্র থেকে ক্রয় করতে পারবেন। প্রথম সপ্তাহের বিশেষ ছাড় এবং ছাত্রদের জন্য বিশেষ হারও নির্ধারিত হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, CPH:DOX ২০২৬ একটি বৈচিত্র্যময় এবং সমসাময়িক ডকুমেন্টারি প্রোগ্রাম উপস্থাপন করে, যা বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ এবং মানবিক অভিজ্ঞতার গভীরতা উন্মোচন করে। উৎসবটি ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্তে আলো ফেলবে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হবে।



