লন্ডন স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতের প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ওয়েস্ট হ্যামের মধ্যে ১-১ সমতা রয়ে যায়। ম্যাচের শুরুর মুহূর্তেই টোমাস সাউকেকের গোলের ফলে ইউনাইটেড এক গোলের পিছনে পড়ে, তবে শেষ পর্যন্ত দু’দলই অতিরিক্ত গোল করতে পারে না।
খেলোয়াড়দের মন্তব্যে দেখা যায়, হেয়ারকাট নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। মথেউস কুনহা বলেছিলেন, “আমি তার হেয়ারকাট নিয়ে কোনো মতামত রাখি না,” আর ব্রুনো ফার্নান্দেসও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, “আমি অন্যের চুল কাটার বিষয়টা দেখি না।” মাইকেল ক্যারিকও হেয়ারকাট বিষয়টি জানার কথা স্বীকার করেন, তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ জোর দিয়ে বলেন যে এটি দলের প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ম্যাচের বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের সময় হেয়ারকাটের দিকে নজর বেশি ছিল। টিএনটি স্পোর্টসের লাইভ কমেন্টারি ও পোস্ট-গেম বিশ্লেষণেও হেয়ারকাটের চিত্রময়তা প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে, কিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রায় ২৫০,০০০ দর্শক ফ্র্যাঙ্ক ইলেটের—যাকে এখন ‘দ্য ইউনাইটেড স্ট্র্যান্ড’ বলা হয়—লাইভ ফিড দেখছিলেন, যেখানে তিনি তার চুল না কাটার শপথের পর থেকে ইউনাইটেডের ধারাবাহিক জয় না পাওয়া পর্যন্ত তার চুল বাড়তে থাকে।
ইলেটের শপথ ছিল, ইউনাইটেড পাঁচটি ম্যাচে ধারাবাহিক জয় না পেলে তিনি চুল কাটবেন না। এই শপথের ফলে তার ব্যক্তিগত পরিচয় ও সামাজিক মিডিয়ায় অনুসারী সংখ্যা ইউনাইটেডের পারফরম্যান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে গিয়েছে। ইউনাইটেডের ফলাফল যতই খারাপ হোক, তার চুল ততই লম্বা হয়ে যায়, যা তাকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এক ধরনের প্রতীকী চরিত্রে পরিণত করেছে।
ম্যাচে ইউনাইটেডের প্রথম গোলের পর, ক্যামেরা মাঝে মাঝে ইলেটের দিকে জুম করে, যেখানে তিনি উন্মাদনা ও উদ্বেগের মিশ্রণে দেখা যায়। তার চুলের দৈর্ঘ্য ও ইউনাইটেডের পারফরম্যান্সের এই অদ্ভুত সমন্বয় ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। যদিও ম্যাচের ফলাফলই মূল বিষয়, তবু হেয়ারকাটের গল্পটি মিডিয়ার শিরোনাম হয়ে ওঠে।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে, উভয় দলই সমানভাবে প্রতিরক্ষা করে, ফলে স্কোর পরিবর্তন হয় না। ফলস্বরূপ, দুই দলই এক পয়েন্ট করে ভাগাভাগি করে। এই ড্রটি ইউনাইটেডের ধারাবাহিক জয়ের শপথকে আরও কঠিন করে তুলেছে, কারণ এখনো পাঁচটি জয়ের শর্ত পূরণ হয়নি।
ইলেটের হেয়ারকাট শপথের ফলে তার সামাজিক মিডিয়া উপস্থিতি বাড়ে, এবং তার ব্যক্তিগত আয়ও বৃদ্ধি পায়। তার চুলের দৈর্ঘ্য ও ইউনাইটেডের ফলাফল একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অনন্য ফ্যান কালচার গড়ে তুলেছে, যা ক্রীড়া জগতের বাইরে পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
ম্যাচের পর, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ পুনরায় জোর দেন যে হেয়ারকাট কোনো কৌশলগত বিষয় নয় এবং দলটি পরবর্তী ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যামের বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকবে। কোচের এই মন্তব্য দলীয় মনোভাবকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
ইলেটের গল্পের মাধ্যমে দেখা যায়, আধুনিক ফুটবল ভক্তরা কেবল মাঠের খেলা নয়, বরং ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি ও সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠা অতিরিক্ত গল্পেও আকৃষ্ট। এই ধরনের ঘটনা ক্রীড়া সংবাদকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে।
সারসংক্ষেপে, লন্ডন স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে ১-১ ড্রের মাধ্যমে একটি স্মরণীয় ম্যাচ শেষ করে, যেখানে হেয়ারকাট গিকের চিত্রময় উপস্থিতি মিডিয়ার আলোকে ছাপিয়ে যায়। ভবিষ্যতে ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স ও ইলেটের শপথের ফলাফল কিভাবে বিকশিত হবে তা ভক্তদের জন্য বড় প্রশ্ন রয়ে যায়।



