পাল্লেকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ বি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ২২৫ রানের বিশাল লক্ষ্য স্থাপন করে ওমানকে পরাজিত করেছে। এই ম্যাচটি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় এবং দু’দলই টি২০ আন্তর্জাতিকের শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। শ্রীলঙ্কা দলের ক্যাপ্টেন দাসুন শানাকা এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দাসুন শানাকা ১৯ বলের মধ্যে ৫০ রান করে শ্রীলঙ্কার টি২০ ইতিহাসে দ্রুততম অর্ধশতক রেকর্ড করেন। তিনি দুইটি চার এবং পাঁচটি ছয় মারার মাধ্যমে এই রেকর্ড অর্জন করেন। এই পারফরম্যান্স তাকে দলের আক্রমণাত্মক চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরে।
শ্রীলঙ্কা ২২৫ রানের মোট স্কোরে ৫ উইকেট হারিয়ে ওমানকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জন করে। এই স্কোরটি টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড, যা পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ২১৩ রানে ৪ উইকেটের সঙ্গে ধারন করেছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ ২১৩/৪ স্কোরটি আহমেদাবাদের ম্যাচে কানাডার বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছিল, তবে শ্রীলঙ্কার ২২৫/৫ স্কোর তা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই নতুন রেকর্ড শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং শক্তি এবং পিচের সুবিধা উভয়ই প্রতিফলিত করে।
পাভন রথনায়েক এবং কুসাল মেন্ডিস শ্রীলঙ্কার ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক তৈরি করেন। উভয়ই প্রায় ৫০ রানের কাছাকাছি স্কোর নিয়ে তৃতীয় উইকেটের জন্য ৯৪ রানের স্থিতিশীল অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন।
রথনায়েক এবং মেন্ডিসের এই অংশীদারিত্ব শ্রীলঙ্কাকে দ্রুত স্কোর বাড়াতে সহায়তা করে এবং ওমানের বলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাদের সম্মিলিত রান শ্রীলঙ্কার মোট লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কামিন্দু মেন্ডিস শেষের দিকে অল্প সময়ে ১৯* রান যোগ করেন, মাত্র সাতটি বলের মধ্যে একটি চার এবং দুইটি ছয় মারেন। তার দ্রুত ফ্লেয়ার শ্রীলঙ্কার স্কোরকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে।
এই ম্যাচটি পাল্লেকেলের প্রথম টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল এবং পিচের গতি ও বাউন্ডারি উভয়ই ব্যাটসম্যানদের জন্য অনুকূল প্রমাণিত হয়। পিচের এই গুণাবলী কলম্বোর ট্র্যাকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য সৃষ্টি করে।
শ্রীলঙ্কা এখন টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় জয় অর্জনের পথে রয়েছে এবং এই জয় দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা প্রদান করে। দলটি কো-হোস্ট হিসেবে টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে চায়।
পরবর্তী ম্যাচে শ্রীলঙ্কা তাদের গ্রুপের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে, যা দলকে শীর্ষস্থান অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ দেবে। দলটি এই জয়ের সাফল্যকে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে চায়।
ক্যাপ্টেন শানাকা ম্যাচের পর প্রকাশ্যে বলেন, দলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে সক্ষম হয়েছে এবং এই জয় টুর্নামেন্টে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। তিনি দলের সমন্বয় এবং পিচের সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
শ্রীলঙ্কার এই বিশাল স্কোর এবং শানাকার রেকর্ড ভাঙা অর্ধশতক টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ডে থাকবে, যা দলের ভবিষ্যৎ ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হবে।



