ঢাকা-১৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে জানান যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকা একটি বড় সমস্যা। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী কমিশনের নির্দেশনা সত্ত্বেও কিছু স্থানে স্থানীয় প্রভাবশালীর বাধার ফলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা ক্যামেরা বসাতে পারেনি।
প্রার্থী বলেন, যদিও ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল, তবে বাস্তবে কিছু কেন্দ্রে তা সম্পন্ন হয়নি এবং এই ঘাটতি ভবিষ্যতে ভোটের স্বচ্ছতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, তিনি কিছু এলাকায় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও জামায়াতের সমর্থকদের ওপর হয়রানির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন, যা নির্বাচনের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
মীর আহমাদ ভোটের সময় ভিন্ন ভিন্ন কেন্দ্রের উপস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে, অন্যদিকে কিছু স্থানে ভোটাররা এক ঘণ্টা আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন। তবে সামগ্রিকভাবে তিনি ভোটের পরিবেশকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ বলে মূল্যায়ন করেন।
বিশেষ করে নারী ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। ন্যাশনাল বাংলা কলেজ ও মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পর্যাপ্ত সংখ্যক পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ভোটের সুষ্ঠু পরিচালনায় সহায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রার্থী জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা ফলাফলের ওপর নয়, বরং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর নির্ভর করে। তিনি ক্যামেরা কভারেজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি, ভোটারদের কোনো ধরনের হয়রানি না করা এবং ভোট গণনায় হস্তক্ষেপ না থাকা শর্তে যেকোনো ফলাফলই গ্রহণযোগ্য হবে বলে উল্লেখ করেন।
মীর আহমাদ এছাড়াও সামাজিক মিডিয়ায় গত রাতের কিছু বিশৃঙ্খলা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি গণমাধ্যমকে আহ্বান জানান যে, বিভ্রান্তিকর কন্টেন্টের প্রচার না করে সঠিক তথ্য প্রদান করে জনমতকে সঠিক পথে পরিচালিত করা উচিত।
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন একটি বাধ্যতামূলক শর্ত এবং ভবিষ্যতে এই বিষয়ে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের কারণে বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে।
মীর আহমাদের মন্তব্যের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি ও ত্বরিত ক্যামেরা স্থাপনের দাবি বাড়তে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি এই বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান না হয় তবে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা হ্রাস পেতে পারে এবং বিভিন্ন দলই এই বিষয়টি তাদের নির্বাচনী কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মীর আহমাদ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি না থাকাকে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন, তবে ভোটের সামগ্রিক পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ ও পর্যাপ্ত পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষজনক বলে বিবেচনা করেছেন। তিনি ফলাফল গ্রহণের শর্ত হিসেবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ও হস্তক্ষেপমুক্ত গণনা উল্লেখ করে মিডিয়াকে বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।



