হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে BTV-র সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন এবং তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল চালক সাকিবকে রামদা দিয়ে আক্রমণ করা হয়। আক্রমণকারীরা একদল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত, যাঁরা হঠাৎ করে সাংবাদিকের ওপর হিংসাত্মক হামলা চালায় এবং দুজনকে গুরুতর আঘাতের শিকার করে।
মিরাজ উদ্দিন সংবাদ সংগ্রহের কাজের জন্য গামছাখালী এলাকায় গিয়েছিলেন। হঠাৎ করে উপস্থিত অপরাধী দলটি রামদা দিয়ে তাকে আঘাত করে, যার ফলে তিনি শিরায় গুরতর চোট পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াক্তি দ্বারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সময়ে তার সঙ্গে থাকা বাইক চালক সাকিবও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
স্থানীয় সূত্রের মতে, আক্রমণকারী দলটি চিহ্নিত ক্যাডার ‘পিচ্চি আজাদ’-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের পুনর্বাসন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আজাদ ও তার সহকর্মীরা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা গ্রেফতার হয়নি।
হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
আক্রমণের পর স্থানীয় সাংবাদিক সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দায়িত্বশীলদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। সমিতির সদস্যরা দাবি করেন যে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত। এদিকে, চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে উত্তর দেননি।
প্রতিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, সাংবাদিকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বর্তমানে মিরাজ উদ্দিন ও সাকিবের চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল, তবে তাদের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় মিডিয়া সংস্থাগুলি এবং সাংবাদিক সমিতি একত্রে একটি সমন্বিত প্রতিবাদ পরিকল্পনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধ করা যায়। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে তদন্তের ফলাফল শীঘ্রই প্রকাশ করার এবং অপরাধীদের আইনি দায়িত্বে টেনে আনার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



