শেরপুর সদর উপজেলার চর মোচরিয়া ইউনিয়নের নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় তিনটি ব্যালট বই চুরির ঘটনা ঘটেছে। অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে দুইজন সন্দেহভাজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, তবে চুরিকৃত ব্যালটের মধ্যে একটি গণভোটের এবং একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বই এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
ঘটনা ঘটার মুহূর্তে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. শাহিদুল ইসলাম জানান, কয়েকজন অচেনা ব্যক্তি হঠাৎ করে কেন্দ্রের দু’টি কক্ষ থেকে তিনটি ব্যালট বই তুলে নেন। তাতে দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এবং একটি গণভোটের ব্যালট অন্তর্ভুক্ত ছিল। চুরি হওয়া ব্যালটের মধ্যে একটি গণভোটের এবং একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বই এখনও পাওয়া যায়নি।
ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলে র্যাব, পুলিশ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তদুপরি, শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবা হক জানান, মোট চল্লিশটি ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুইজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
শেরপুর জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের মতে, শেরপুর-১ (সদর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৫০,৪৮৮, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,২৪,৪৭২, নারী ভোটার ২,২৬,০৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন অন্তর্ভুক্ত। এই আসনে মোট ১৪৫টি ভোটকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ, ৪০টি মাঝারি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৮১টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত।
অভিযুক্ত দুই যুবককে শেরপুর সদর থানার হেফাজতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যালট চুরির অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, চুরি হওয়া ব্যালটের পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।
প্রশাসনিক দিক থেকে, শেরপুর জেলা নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের সময়কালে র্যাব, পুলিশ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমন্বিত তত্ত্বাবধান থাকবে এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, শেরপুর সদর উপজেলার নির্বাচনী কর্মীরা ভোটগ্রহণের সময়সূচি অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন নিরাপত্তা গার্ডের উপস্থিতি এবং পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং ব্যালটের কিছু অংশের পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও, এখনও দুইটি ব্যালটের অচিহ্নিত অবস্থার কারণে নির্বাচন কমিশনের তদারকি দল অতিরিক্ত তদন্ত চালিয়ে যাবে। তারা চুরি হওয়া ব্যালটের সম্ভাব্য গন্তব্য ও ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় তথ্যসূত্র এবং নজরদারি রেকর্ড বিশ্লেষণ করবে।
শেরপুরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে ভোটগ্রহণ চলছে এবং নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে সকল প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা একত্রে কাজ চালিয়ে যাবে।



