গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভোটের দিন নাগরী ইউনিয়নের বিরুয়া এলাকায় এক যুবককে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা আরোপ করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা উপস্থিত ছিলেন। উভয় কর্মকর্তা একসাথে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ওপর দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সী শ্রেয়ন আহমেদ আলী, ধনুন এলাকার জুলহাস মোল্লার সন্তান, ভোটকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় মোটরসাইকেল চালিয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন। তিনি ভোটের সময়ে গৃহীত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গাড়ি চালিয়ে ঘোরাফেরা করছিলেন।
ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের কাছে মোটরসাইকেল চালানোর অনুমোদনপত্র চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। একই সঙ্গে কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন সনদ বা কাগজপত্রও উপস্থাপন করতে পারেননি।
প্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারার অধীনে অভিযুক্তকে ২০০ টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়। এই ধারা নির্বাচনি সময়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন ও অশান্তি সৃষ্টির জন্য শাস্তি নির্ধারণ করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত শাস্তি প্রদান করতে সক্ষম, ফলে ভোটের পরিবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়। জরিমানা আরোপের পাশাপাশি অভিযুক্তকে ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন না করার সতর্কতা দেওয়া হয়।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আর কোনো শারীরিক শাস্তি না দিয়ে আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির প্রয়োগে কঠোরতা নির্দেশ করে। জরিমানা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
এই মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। তিনি যদি শাস্তি অস্বীকার করেন, তবে উচ্চতর আদালতে আপিল দায়ের করতে পারেন। আপিল প্রক্রিয়া শুরু হলে মামলাটি জেলা আদালতে স্থানান্তরিত হবে।
নির্বাচনি সময়ে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে গাড়ি চালানো ও জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা সরকারী নীতি হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। এই নীতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়, যাতে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
স্থানীয় প্রশাসন উল্লেখ করেছে, ভোটের দিন জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা স্বাভাবিক। ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিযুক্তের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই শাস্তি সম্পর্কে জানার পর কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে অধিকাংশ মানুষ ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই ধরনের শাস্তি প্রয়োজনীয় বলে সমর্থন জানিয়েছে।
গাজীপুরের নির্বাচনি পরিবেশে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগের এই উদাহরণ ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন দমন করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।



