গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯:৩০ টার কাছাকাছি ককটেল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন দুজন আনসার (আবহাওয়া ন্যাশনাল সার্ভিস) সদস্য এবং ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ে আহত হয়। ঘটনাস্থলে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের রিপোর্টের পরই অপরাধীরা কাছের খালের ওপার থেকে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে।
উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, ভোটকেন্দ্রের ভিতরে ভোটগ্রহণ কোনো বিঘ্ন ছাড়াই চলছিল। বিস্ফোরণের ধ্বনিতে উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কেন্দ্রের মূল প্রবেশদ্বার আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে আনসার সদস্য সুকন্ঠ মজুমদার ও জামাল হোসেন, এবং পৌরসভার আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা আমেনা খানম অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। আহতদের পরবর্তী চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং বিস্ফোরণের সূত্র অনুসন্ধানে তৎপরতা বজায় রেখেছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত টুকরা ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন করা হয়েছে যাতে ভোটগ্রহণের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা যায়।
একই সময়ে, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং প্রবেশে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অজুহাতে তার এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে।
তাসনিম জারা জানান, কিছু কেন্দ্রে পুরুষ এজেন্টদের অনুমতি দেওয়া হলেও নারী এজেন্টদের প্রবেশে বাধা আরোপ করা হচ্ছে। এছাড়া, ভোটকেন্দ্রে ফোন নিয়ে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া বা ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার মতো শর্ত আরোপ করা হচ্ছে, যা তিনি অনুচিত বলে সমালোচনা করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটদান প্রক্রিয়ায় এজেন্টদের উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য, তাই এসব অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। তাসনিম জারা দাবি করেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উচিত সকল পোলিং এজেন্টকে সমানভাবে অনুমতি প্রদান করা।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দেন। ভোটদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আজ থেকে প্রতিটি পদে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পাবেন এবং এই মুহূর্তকে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মনে করেন।
এই ঘটনাগুলি নির্বাচনী পরিবেশে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ভোটদান প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ককটেল নিক্ষেপের তদন্ত দ্রুততর করা এবং পোলিং এজেন্টদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি জানানো হয়েছে।
ভোটগ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদারকি অব্যাহত থাকবে। নির্বাচনের পরবর্তী ধাপে, ভোটের ফলাফল প্রকাশের আগে সকল প্রান্তে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।



