28 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইসিসি ড্রোন, বডি ক্যামেরা ও মোবাইল অ্যাপ দিয়ে নির্বাচন তদারকি শুরু

ইসিসি ড্রোন, বডি ক্যামেরা ও মোবাইল অ্যাপ দিয়ে নির্বাচন তদারকি শুরু

ইলেকশন কমিশন (ইসিসি) আজ সকাল থেকে ১৩তম সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের তদারকি শুরু করেছে, যেখানে বডি‑ওয়্যার ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন এবং অমানবিক বায়ুযান (ইউএভি) থেকে সরাসরি ভিডিও ফিডের পাশাপাশি একটি বিশেষ নিরাপত্তা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। তদারকি কাজের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এজারগাঁও, ঢাকা অবস্থিত ইসিসি সেক্রেটারিয়াটের আইন‑শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সমগ্র নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে। ভোটদান সকাল ৭:৩০ টায় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ চালু হয়, ফলে ভোটার ও কর্মীদের চলাচল রিয়েল‑টাইমে নজরে রাখা সম্ভব হয়। এই ব্যবস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ড্রোন, সিসিটিভি এবং বডি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত চিত্রগুলো একত্রে বিশ্লেষণ করা হয়, আর জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হয়। তদারকি সিস্টেমের সমন্বয় কাজটি ইসিসি সেক্রেটারি আকতার আহমেদ তত্ত্বাবধান করছেন, যিনি তদারকি কেন্দ্র পরিদর্শনের পর মিডিয়াকে জানিয়েছেন, “আমরা ভোটের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছি, আপনারাও নজর রাখুন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আমাদের জানিয়ে দিন।” এই আহ্বানটি নাগরিকদের সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্য বহন করে।

প্রাতঃকালে তদারকি শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যাহ্ন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অনিয়মের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ইসিসি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ভোটদান প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি এবং প্রযুক্তিগত তদারকি সিস্টেমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্বাভাবিকতা সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদারকি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নির্বাচনের পুরো সময়কাল জুড়ে এই সিস্টেম সক্রিয় থাকবে।

নির্বাচন নিরাপত্তা (নির্বাচন সুরক্ষা) অ্যাপ, যাকে ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ বলা হয়, ভোটার, পর্যবেক্ষক এবং মাঠের কর্মীদের থেকে রিয়েল‑টাইম আপডেট সংগ্রহ করে ইসিসি-কে পাঠায়। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা বা অস্বাভাবিক ঘটনার তথ্য তৎক্ষণাৎ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছায়, ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। অ্যাপের ব্যবহার ভোটারদের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে।

ইসিসি কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ পূর্বে উল্লেখ করেছেন, বডি ক্যামেরা থেকে সরাসরি ফিড পাওয়া কমিশনের জন্য সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি নির্বাচনের সময় উদ্ভূত যে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার দ্রুত মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করবে। এই মন্তব্যটি ইসিসি-র প্রযুক্তিগত তদারকি নীতির মূল উদ্দেশ্যকে পুনরায় জোরদার করেছে।

ভোটদান ২৯৯টি সংসদীয় এলাকা জুড়ে ৪২,৬৫১টি ভোটকেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে শেরপুর-৩ নির্বাচন কেন্দ্রের ভোটদান প্রার্থী মৃত্যুর কারণে স্থগিত করা হয়েছে, ফলে ঐ এলাকায় ভোটের সময়সূচি পুনরায় নির্ধারণ করা হবে। অন্যান্য সব কেন্দ্র থেকে ভোট গ্রহণের কাজ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলছে।

বিপক্ষের দলগুলো, বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল, এই তদারকি ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, ড্রোন ও বডি ক্যামেরা ব্যবহার ভোটের স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো বিতর্কের সম্ভাবনা কমাবে। তবে তারা তদারকি প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্রতা ও স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি বজায় রাখারও দাবি করেছে।

প্রযুক্তিগত তদারকি ব্যবস্থা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, রিয়েল‑টাইম ডেটা ও ভিডিও ফিডের মাধ্যমে কোনো অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব হলেও, তথ্যের ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানবিক বিচারের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই ইসিসি-র প্রযুক্তি ব্যবহারকে মানবিক তদারকি প্রক্রিয়ার সাথে সমন্বয় করা জরুরি।

আসন্ন দিনগুলোতে ইসিসি-র তদারকি সিস্টেমের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে, বিশেষ করে ভোটের শেষ পর্যায়ে এবং ফলাফল ঘোষণার সময়। যদি প্রযুক্তিগত তদারকি সফলভাবে কাজ করে, তবে ভবিষ্যতের নির্বাচনেও একই ধরণের সিস্টেমের ব্যবহার বাড়তে পারে। অন্যদিকে, কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা হলে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ইসিসি আজকের ভোটদানকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তদারকি করছে, যেখানে ড্রোন, বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং মোবাইল অ্যাপের সমন্বয়ে রিয়েল‑টাইম পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তদারকি কেন্দ্রের সক্রিয় পর্যবেক্ষণ, নাগরিকদের সহযোগিতা এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা অ্যাপের ব্যবহার একসাথে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্য পূরণে কাজ করবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তিগত তদারকি ব্যবস্থা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মানদণ্ডকে আরও উন্নত করতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments