সাম্প্রতিক প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশনে কানাডার ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিলের প্রস্তাব একাধিক ভোটে পাশ হয়। প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নসদনকে শুল্কের প্রয়োগ বন্ধ করার অনুমোদন দেয়, তবে আইনগতভাবে কার্যকর হতে হলে সিনেটের স্বীকৃতি এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। বর্তমানে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ফলে প্রস্তাবের বাস্তবায়ন অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
প্রস্তাবটি ভোটের সময় প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন তীব্র বিরোধের মুখোমুখি হন। তিনি শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনাকে থামানোর চেষ্টা করেন, তবে রিপাবলিকানদের অল্প সংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন তাকে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ছয়জন রিপাবলিকান সদস্য দলের সঙ্গে সঙ্গতি না রেখে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন, ফলে প্রস্তাবটি সহজে পাশ হয়।
প্রস্তাবের ফলাফল জানার পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ মন্তব্য করেন। তিনি শুল্কের বিরোধী ভোটের ফলে নির্বাচনী সময়ে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে এমন সতর্কতা দেন। এছাড়া তিনি শুল্ককে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের রক্ষাকারী হিসেবে উল্লেখ করে, কোনো রিপাবলিকানকে এই সুবিধা নষ্ট করার দায় নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তিনি শুল্কের সমর্থনে যে যুক্তি দেন, তা পার্টির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে এবং কিছু সদস্যের মধ্যে তার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তদুপরি, শুল্ক বাতিলের প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদানকারী রিপাবলিকানদের জন্য ভবিষ্যতে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়ছে।
ডেমোক্র্যাট পার্টির সদস্য গ্রেগরি মিকস প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন এবং ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে সমালোচনা করেন। মিকসের মতে, শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শুল্কের অব্যাহত প্রয়োগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক শৃঙ্খলাকে ব্যাহত করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বার্থের ক্ষতি করছে।
প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে ডেমোক্র্যাট পার্টি এবং কিছু রিপাবলিকান পার্টির সদস্যের সমন্বয় দেখা যায়। যদিও রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তবু ছয়জন সদস্যের বিচ্যুতি প্রস্তাবের পাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পার্টি-সীমা অতিক্রমকারী ভোটের ফলে শুল্ক বাতিলের প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদন পায়, যা পূর্বে কঠিন বলে বিবেচিত হয়েছিল।
শুল্ক বাতিলের প্রস্তাবের পরবর্তী ধাপ হল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অনুমোদন। সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির বেশিরভাগই শুল্ক বজায় রাখার পক্ষে, ফলে প্রস্তাবের গৃহীত হওয়া কঠিন হতে পারে। যদি সিনেট অনুমোদন না দেয়, তবে শুল্কের অবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে এবং কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে।
সিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে, শেষ পর্যায়ে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রতি দৃঢ় অবস্থান বিবেচনা করে, তার স্বাক্ষরের সম্ভাবনা কম বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদি তিনি স্বাক্ষর না করেন, তবে শুল্ক বাতিলের প্রস্তাব আইনগতভাবে কার্যকর হবে না এবং বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থা বজায় থাকবে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রস্তাবের পাস রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে তীব্র বিতর্কের সূচনা করেছে। শুল্কের বিরোধী ও সমর্থকদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা আসন্ন মধ্য-মেয়াদী নির্বাচনে পার্টির কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে, ডেমোক্র্যাট পার্টি শুল্ক বাতিলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, কানাডা শুল্ক বাতিলের প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও, সিনেটের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া তা বাস্তবে রূপ নিতে পারবে না। এই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিদ্যা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে সিনেটের ভোটের ফলাফল এবং ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত দেশের বাণিজ্যিক নীতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।



