ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম দিন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সকাল প্রায় দশটায় রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে ভোট দেন। তিনি ভোটদান শেষে মিডিয়ার সামনে দেশের জন্য এই দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরে, এক বছর অর্ধেকের অপেক্ষার পর এখন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে প্রকাশ্যে আনন্দ প্রকাশ করেন।
সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময়ের পর আজ দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দময় দিন, যেখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সকাল থেকে সারা দেশে শান্তি বজায় রয়েছে এবং ভোটগ্রহণের পরিস্থিতি অনুকূল। দেশের নাগরিকদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে আহ্বান জানান, যাতে এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
তিনি আরও আশাবাদী সুরে উল্লেখ করেন, আল্লাহর কৃপায় আজকের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার গঠন হবে, যা গত দেড় বছর পর গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে সাতটায় ২৯৯টি আসনে শুরু হয়; শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ভোটদান প্রক্রিয়া বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে বলে নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি জানানো হয়েছে।
এই নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ ভোটার তালিকাভুক্ত, যার মধ্যে প্রায় চার কোটি তরুণ প্রথমবারের মতো ভোটদানের সুযোগ পাবে। এছাড়া, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোটদান সম্ভব হয়েছে, এবং নির্বাচনী কর্মী ও বন্দিরাও এই ব্যবস্থার আওতায় ভোট দিতে পারবে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৫০টি রাজনৈতিক দল, মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২০২৮, যার মধ্যে ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটের মাধ্যমে সংবিধানের কিছু মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাবের জন্যও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট নেওয়া হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেনাপ্রধানের মন্তব্যের পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহ নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত তত্ত্বাবধান থাকবে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো বিরোধ বা অশান্তি না ঘটে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ভোটগ্রহণের দিন সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে, কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা বা হিংসাত্মক সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। ভোটাররা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন, এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সময়মতো চলতে দেখা যাচ্ছে।
এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় আনবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে ফলাফল প্রকাশিত হয়, তবে সরকার গঠনের পর নীতি নির্ধারণে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে, সংবিধান সংশোধনের জন্য অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল ভবিষ্যৎ আইনগত কাঠামোকে প্রভাবিত করবে।
সারসংক্ষেপে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম দিনটি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে, সেনাপ্রধানের ভোটদান এবং আশাবাদী মন্তব্য দেশের নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব জাগিয়ে তুলেছে। ভোটগ্রহণের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



