ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ভোটগ্রহণের সময় পোলিং অফিসার মো. মুজাহিদুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টার কাছাকাছি সিরাজুল ইসলাম অডিটোরিয়ামের ৫১ নম্বর ভোটকক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলেই সহকর্মীরা তাকে তৎক্ষণাৎ সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সরাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকার পোলিং অফিসারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মুজাহিদুল ইসলাম পানিশ্বর ইউনিয়নের ইসলামী ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক ছিলেন এবং নির্বাচনের দিনও তিনি ভোটকেন্দ্রে কাজ করছিলেন।
মুজাহিদুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করেন কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি মৃত ঘোষণা করা হয়। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবর সহকর্মী, নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।
সেই একই সকালে সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটদান সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত চলবে এবং মোট ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র থেকে ভোট সংগ্রহ করা হবে। এই কেন্দ্রে মোট ২,৪৭,৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।
এই নির্বাচনে মোট ২৯৯টি সংসদীয় আসন নির্ধারিত এবং ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার ব্যবহার করবেন। ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১,২৩২ জন অন্তর্ভুক্ত।
মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এদের মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ১,৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৩ জন। নারীদের প্রার্থী সংখ্যা ৮৩ জন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২০ জন। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২,২৮০ জন।
নির্বাচনের সময় পোলিং অফিসারদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা নির্বাচন কমিশন পূর্বে জানিয়েছে। মুজাহিদুলের মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তার পরিবারকে জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কর্মী ব্যবস্থা করেছে।
ভোটদান প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই চলতে থাকে এবং ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা রক্ষায় গার্ড ও স্বেচ্ছাসেবক সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। মুজাহিদুলের মৃত্যু সত্ত্বেও ভোটদান সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়নি, ফলে ভোটাররা নির্ধারিত সময়ে ভোট দিতে পারছেন।
স্থানীয় নেতারা মুজাহিদুলের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি শিক্ষক হিসেবে বহু শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলার পাশাপাশি নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করছিলেন, এ দুই ভূমিকায় তার অবদানকে সবাই স্মরণ করবে।
এই ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। যদিও মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে ফলাফল জানাবে।
মুজাহিদুলের পরিবার ও সহকর্মীরা শোক প্রকাশের পাশাপাশি তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত সকল ভোটকেন্দ্রের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।



