গুরমীৎ চৌধুরী রাজপাল যাদবের চেক‑বাউন্স মামলায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যাদব টিহার জেলে আত্মসমর্পণ করার আগে শিল্পের সহায়তা না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করছিলেন। গুরমীৎ এই পরিস্থিতি দেখে সহানুভূতি জানিয়ে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি শিল্পের সহকর্মীদেরও একসাথে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।
গুরমীৎ চৌধুরীর মন্তব্যে তিনি বলেন, “রাজপাল জি’র মতো বয়স্ক অভিনেতাকে এই ধরনের অপরাধে জেলে দেখতে হৃদয়বিদারক।” তিনি উল্লেখ করেন, সাদা কলার অপরাধীরা কোটি কোটি টাকা সাঁতার কাটিয়ে যায়, আর শিল্পীকে ছোটখাটো অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়। গুরমীৎ জোর দিয়ে বলেন, তিনি রাজপাল জি’কে আর্থিকভাবে যতটা সম্ভব সাহায্য করবেন।
এছাড়া তিনি শিল্পের সহকর্মীদের আহ্বান জানান, “একজন সহকর্মীর কঠিন সময়ে আমরা একসাথে দাঁড়াই, তার পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি রাজপাল যাদবের বিনোদন জগতে অবদানের কথা উল্লেখ করে, “তিনি এত বছর আমাদের হাসি এনে দিয়েছেন, এখন তার সাহায্য করা আমাদের কর্তব্য।”
রাজপাল যাদবের পূর্বের বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, “সার, কী করব? আমার কাছে টাকা নেই, আর কোনো উপায় দেখাচ্ছে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “এখানে আমরা সবাই একা, কোনো বন্ধু নেই, এই সংকটে নিজে মোকাবিলা করতে হবে।” এই কথাগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিল্পের কিছু নাম প্রকাশ্যে সমর্থন জানায়।
সোনু সুড, অক্ষয় কুমার, সালমান খান, অজয় দেবগণ, ডেভিড ধাওয়ান এবং অন্যান্য শিল্পী আর্থিক সহায়তা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ নগদ অর্থ, কেউ চেক, কেউ ঋণ আকারে সাহায্য দিতে প্রস্তুত। গুরমীৎ চৌধুরীর উদ্যোগের পর এই সমর্থন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সালমান খান তার সমর্থন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে, তবে তিনি কীভাবে সাহায্য করবেন তা স্পষ্ট করেননি। তবে তার পোস্টে তিনি শিল্পের ঐক্যবদ্ধতা ও সহানুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে অক্ষয় কুমার এবং অজয় দেবগণও সমর্থন জানিয়ে, “যে কোনোভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত” বলে মন্তব্য করেছেন।
গুরমীৎ চৌধুরী নিজে কীভাবে সাহায্য করবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, “যথাসাধ্য সবকিছু করব।” তিনি উল্লেখ করেন, সাহায্য নগদ, চেক বা অন্য কোনো আর্থিক উপায়ে হতে পারে। তার এই প্রতিশ্রুতি শিল্পের অন্যান্য সদস্যদেরও অনুপ্রাণিত করেছে।
রাজপাল যাদবের মামলায় টিহার জেলে আত্মসমর্পণ করা হয়েছে, এবং আদালত এখন চেক‑বাউন্সের শাস্তি নির্ধারণের দিকে এগোচ্ছে। তার আর্থিক অবস্থা এখনও অস্থির, তাই শিল্পের সমর্থন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিহার জেল দিল্লিতে অবস্থিত, যেখানে যাদব বর্তমানে আটক আছেন।
এই সমবায়িক প্রতিক্রিয়া চলচ্চিত্র জগতের ঐক্যবদ্ধতা ও মানবিক দিককে প্রকাশ করে। যদিও কিছু বিশাল ব্যবসায়ী অপরাধে দোষী, তবু এই ঘটনা শিল্পের ভিতরে সহানুভূতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। শিল্পের সহকর্মীরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে, কঠিন সময়ে সমর্থন প্রদান করা একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
শেষে, গুরমীৎ চৌধুরীর উদ্যোগ অন্যান্য শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করতে পারে এবং রাজপাল যাদবের আর্থিক সংকট সমাধানে সহায়তা করতে পারে। এই ধরনের সমর্থন ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যায় পড়া শিল্পীদের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।



