বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলায় ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত প্রায় ৯টায় হটিয়ারপাড়া ভোটকেন্দ্রের সামনে ছাত্রদলের নেতা মিলন মিয়া (২৫) ছুরিকাঘাতের শিকার হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনের পর হঠাৎ করে একাধিক আঘাতের মাধ্যমে তিনি আহত হন এবং পরে পালিয়ে যায়।
মিলন মিয়া ধুনট ডিগ্রি কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় সদস্য। তিনি ধুনট উপজেলায় রাজনৈতিক সমাবেশ ও ক্যাম্পেইনের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং তার বয়স সত্ত্বেও দলীয় কাজকর্মে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতেন।
হটিয়ারপাড়া ভোটকেন্দ্রটি ধুনট-শেরপুর আসনের বগুড়া-৫ নম্বর নির্বাচনী এলাকা অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ভোটারদের জন্য ভোটদান প্রক্রিয়া চলছিল। ভোটকেন্দ্রের সামনে মিলন মিয়া তার নিজের বাড়ির পাশের এই স্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যখন স্থানীয় জামায়াত-এ-ইসলামি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
মিলন মিয়া এবং জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের মধ্যে কথোপকথন দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে, জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীরা ছুরি ব্যবহার করে মিলন মিয়াকে আঘাত করেন এবং তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। আঘাতের তীব্রতা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় তিনি তৎক্ষণাৎ স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহত মিলন মিয়াকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার আঘাতের পরিমাণ মূল্যায়ন করে জরুরি সেবা প্রদান করেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। রোগীর পরিবারকে ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ধুনট থানার ওয়াইস-কমিশনার (ওসি) আতিকুল ইসলাম ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই একটি পুলিশ দলকে ঘটনাস্থলে পাঠান। দলটি দ্রুত পৌঁছে现场ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
অফিসার আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দলটি আঘাতপ্রাপ্তের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং স্থানীয় সাক্ষীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। তদুপরি, হটিয়ারপাড়া ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে ক্যামেরা রেকর্ডিং এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালু করা হয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যে ছুরিকাঘাতের অপরাধের জন্য মামলা দায়ের করেছে এবং সন্দেহভাজন জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের সনাক্ত করার জন্য অনুসন্ধান চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনি ধারা অনুযায়ী, আক্রমণকারীকে গুলিবিদ্ধ করা, আহত করা বা প্রাণঘাতী আঘাতের জন্য কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
এই ঘটনা নির্বাচনী সময়কালে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ধুনট উপজেলায় পূর্বে বিভিন্ন দলীয় সংঘাতের রেকর্ড রয়েছে, তবে ভোটকেন্দ্রের নিকটে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার ঘটতে দেখা অস্বাভাবিক। স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে।
বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেফতার করা হলে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা বাড়াতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।



