ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৯ টায় শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে ভোটদান শেষে মিডিয়াকে জানিয়ে জানান, তার তিনজন কর্মীকে কোনো কারণ না দিয়ে আটক করা হয়েছে এবং তার এজেন্টদের নয়টি ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি যোগ করেন, ভোট দুই ঘণ্টা আগে শুরু হয়েছে, সারা দিন ভোট চলবে, তাই এখনই ফলাফল বলা সম্ভব নয়।
রুমিন ফারহানা জানান, তিনি ইতিমধ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার কর্মীদের আটক ও এজেন্টদের বের করা তার নির্বাচনী প্রচারণার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
গতকাল রাত একটার পর আশুগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে আনোয়ার হোসেন মৃধা ও নূর আলমকে পুলিশ আটক করে। একই সময়ে আশুগঞ্জের দুর্গাপুর ইউনিয়নের সোহাগপুর আছিয়া সফিউদ্দীন আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা নাছির মুন্সিকেও আটক করা হয়। উল্লিখিত তিনজনই রুমিন ফারহানার কর্মী হিসেবে তার ক্যাম্পেইনের সঙ্গে যুক্ত।
সরাইল থানা থেকে বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া মিডিয়াকে জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অশান্তি রোধে এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজনীয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী তালিকাভুক্ত হলেও, প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত আটজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ও বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের মধ্যে গড়ে উঠবে। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা গত রোববার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছেন।
এই সময়ে রুমিনের অভিযোগের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, রুমিনের দল আইনগত পথে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, যাতে আটককৃত কর্মীদের মুক্তি ও এজেন্টদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন পর্যন্ত রুমিনের অভিযোগের কোনো সরাসরি মন্তব্য দেননি, তবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কী ধরনের নির্দেশনা দেবে তা নজরে থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ভোটদান চলাকালীন সময়ে এ ধরনের বিরোধ ও অভিযোগের উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সকল প্রার্থীর জন্য ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভোটারদের ইচ্ছা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।
বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রুমিন ফারহানা তার অভিযোগের সমাধান চাওয়ার পাশাপাশি, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে তার সমর্থকদের ভোট সংগ্রহে মনোযোগ দিতে প্রস্তুত। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী দিনগুলোতে এই বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।



