১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম দিন, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টায় তামিম ইকবাল কোতোয়ালি থানার লোকপ্রশাসন কেন্দ্রে এসে ভোট দেন। তিনি দেশের অন্যতম প্রাক্তন ক্রিকেটার, যিনি পূর্বে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই ভোট তার জীবনের প্রথম ভোট, যা তাকে উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তুলেছে।
তামিমের মুখে আনন্দের ছাপ স্পষ্ট, তিনি জানিয়েছেন যে এই মুহূর্তটি তার জন্য বিশেষ এবং তিনি খুবই উত্তেজিত। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তার পরিবারেও সবাই ভোট দিতে উপস্থিত হয়েছে, ফলে পুরো পরিবার একসাথে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরেছে।
ভোটদান করা কেন্দ্রটি চট্টগ্রাম-৯ আসনের অন্তর্ভুক্ত, যা কোতোয়ালি ও বাকলিয়া থানা থেকে গঠিত। এই দুই থানা একত্রে আসনের সীমা নির্ধারণ করেছে, ফলে এখানে ভোটদানকারী নাগরিকদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। তামিম যে কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়েছেন, সেখানে মোট ৫,৭৩৬ ভোটার নিবন্ধিত, এবং এই কেন্দ্রের সব ভোটার পুরুষ।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে মোট দশজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মধ্যে চলছে। উভয় প্রার্থীর রাজনৈতিক প্রোফাইল ও সমর্থক গোষ্ঠী এই আসনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রধান দুই প্রার্থীর পাশাপাশি অন্যান্য প্রার্থীর তালিকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ, বাসদের (মার্ক্সবাদী) মো. শফি উদ্দিন কবির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী এবং জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী অন্তর্ভুক্ত। এই প্রার্থীরা প্রত্যেকেই নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আসনে প্রবেশ করেছেন।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪,১৬,৩৬৩, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,১৩,৯০৬, নারী ভোটার ২,০২,৪৪৮ এবং হিজড়া ভোটার ৯ জন। আসনটি মোট ১২১টি ভোটদান কেন্দ্রে বিভক্ত, যেখানে ভোটাররা সমানভাবে বিতরণ হয়েছে। ভোটার গঠনের এই বিশদ তথ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্যভিত্তিক প্রকাশনা থেকে নেওয়া।
তামিমের ভোটদান কেন্দ্রের ৫,৭৩৬ ভোটার সম্পূর্ণ পুরুষ, যা এই কেন্দ্রে লিঙ্গ বৈচিত্র্যের অভাব নির্দেশ করে। যদিও কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবু এই কেন্দ্রে ভোটের অংশগ্রহণের হার উচ্চ বলে ধারণা করা যায়, কারণ ভোটদান সময় উপস্থিতি বেশ সক্রিয় ছিল।
চট্টগ্রাম জেলা সমগ্রে মোট ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৬,৬৮২,৫১৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩,৪৮৩,৮৮৭, নারী ভোটার ৩,১৯৮,৫৬০ এবং হিজড়া ভোটার ৭০ জন। এই বৃহৎ ভোটার ভিত্তি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত।
এই নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল প্রার্থী দাখিল করেছে, যার ফলে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১১৫। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা ১৬, ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীও ১৬, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ১০। বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ নির্বাচনের প্রতিযোগিতাকে তীব্র করেছে।
ভোটের দিন দেশব্যাপী উত্তেজনা ছড়িয়ে আছে, এবং তামিম ইকবালের মতো প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ জনমত গঠনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে। ভোটদান প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে চলতে থাকায় নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী পরিবর্তন আনবে তা সময়ই বলবে।



