প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ে মিডিয়ার সামনে জানালেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি উপস্থিতি, বক্তব্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।
সিইসি নাসির উদ্দিন নির্বাচনের পরিবেশকে উৎসবের মতো বর্ণনা করে, দেশের মানুষকে আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে প্রস্তুত দেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঈদ‑উল‑ফিতর ও ঈদ‑উল‑আজহা’র মতো দিনগুলোতে মানুষ ট্রেন, বাস ও লঞ্চে ভ্রমণ করতেন, আর এখন ভোটের দিনেও একই রকম উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।
গ্রাম‑গ্রাম এবং শহরের মানুষজনের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে, এ কথা তিনি নিজের গ্রাম ও অন্যান্য এলাকায় ঘুরে দেখে জানালেন। তিনি বললেন, দীর্ঘ সময়ের পর ভোটের প্রক্রিয়ায় যে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে উঠেছে, তা দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন আনন্দের স্রোত বয়ে আনছে।
নাসির উদ্দিন নির্বাচনী কমিশনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুনরায় উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তারা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের সকল ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করার জন্য পুরো দল প্রস্তুত।
তিনি জোর দিয়ে বললেন, কোনো ধরণের ‘পাতানো’ বা বিকৃত নির্বাচন হবে না এবং কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। তার মতে, এই নীতি শুধুমাত্র কমিশনের নয়, দেশের সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
ঠাকুরগাঁয়ের একটি ভোটকেন্দ্রে জামাতের একজন নেতা এবং বিএনপির একজন নেতা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন, এমন দৃশ্য সিইসি নাসির উদ্দিনের দৃষ্টিতে গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। দুজন নেতার হাসিখুশি মুখভঙ্গি এবং একসঙ্গে কথা বলা, দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।
এই ঘটনাকে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রমাণ বলে উল্লেখ করে, সকল নাগরিকের সহযোগিতায় ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে, দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
গতকাল বিকেলে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকের কথা তিনি জানালেন। বৈঠকে তিনি দেশের নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা, ভোটগণনা প্রক্রিয়া ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সিইসি নাসির উদ্দিনের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার সূচক। তিনি সব পক্ষকে আহ্বান জানান, ভোটদানকে দায়িত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে।
শেষে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে এবং দেশের সকল নাগরিককে ভোটের অধিকার সঠিকভাবে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করবেন।



