ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা বাজারে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ধারা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ১২০ বছর বয়সী ভোটার তৈয়বজান নিজের হাতে ভোট দিলেন। তিনি দুই নাতির কাঁধে ভর করে ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, যা কেন্দ্রের ভিড়ের মধ্যে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
তৈয়বজানের শারীরিক অবস্থা দুর্বল, নিজে হাঁটা সম্ভব না, তবু ভোটাধিকার ব্যবহার করতে কোনো দ্বিধা দেখাননি। নাতিদের সহায়তায় তিনি ভোটের কাগজ হাতে নেন এবং দ্রুতই ভোটদান সম্পন্ন করেন।
ভোটের পর তিনি হাসি মুখে বললেন, “নিজ হাতে আমার পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিছি। ভোট দিতে পারছি, ভালো লাগছে।” তার কণ্ঠে গর্ব এবং দায়িত্ব পালন করার সন্তোষ স্পষ্ট ছিল।
ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অন্য ভোটারদের মধ্যেও একই রকম উদ্দীপনা দেখা যায়। একই ইউনিয়নের পূর্বধারা গ্রামের বাসিন্দা আকিবুল ইসলাম ১৬‑১৭ বছর পর প্রথমবার ভোট দিতে পেরেছেন এবং “নিজের মতো করে ভোট দিতে পেরেছি” মন্তব্য করেন।
ভোটগ্রহণের জন্য কেন্দ্রের নীচতলায় নারীদের জন্য এবং দোতলায় পুরুষ ভোটারদের জন্য আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। দোতলা থেকে দুই হাতে ক্র্যাচে ভর দিয়ে সিঁড়ি ভেঙে নামতে দেখা যায় এক শারীরিকভাবে অসুস্থ ভোটার, যিনি কষ্ট সত্ত্বেও ভোট দিতে এসেছেন।
ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৩০৫ জন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোজাহারুল হক জানান, ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০০ ভোট পড়েছে এবং ভোটদান প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলছে।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও কেন্দ্র পরিদর্শন হয়। ঘোড়া প্রতীকধারী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল উপস্থিত হয়ে বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই হচ্ছে। ভোট দেওয়ার পরও কেউ কেউ কেন্দ্রে বেশি সময় অবস্থান করছেন—এমন কথা শুনে খোঁজ নিতে এসেছিলাম।” তিনি ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্য উল্লেখ করেন।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোজাহারুল হক রুবেলের এই মন্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি বলে জানান। অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীকধারী প্রার্থী সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স ভোটার তালিকা নিয়ে অস্পষ্টতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভোটার তালিকায় নাম আছে, অ্যাপেও দেখাচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে গেলে বলা হচ্ছে না,” যা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
কেন্দ্রের কর্মীরা তালিকা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে তৎপরতা প্রকাশ করেছেন এবং ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মোটামুটি ভোটদান প্রক্রিয়া মসৃণভাবে চললেও, তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ এবং কিছু ভোটারকে কেন্দ্রে অতিরিক্ত সময় কাটাতে দেখা যাওয়া পরিস্থিতি নির্বাচন পরিচালনা সংস্থাকে পরবর্তী পর্যায়ে মনোযোগ দিতে ইঙ্গিত দেয়।
এই ভোটদান দৃষ্টান্ত দেখায় যে বয়সের সীমা নির্বিশেষে নাগরিকদের ভোটাধিকার ব্যবহার করার ইচ্ছা কতটা দৃঢ়। আগামী দিনে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের উদাহরণগুলো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



