ঢাকা-৪ শ্যামপুর নির্বাচনী এলাকায় সকাল আটটায় প্রথমবার ভোটদানকারী নাগরিকরা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে দেশের শীর্ষ দুই নির্বাচনের অংশগ্রহণের আনন্দ প্রকাশ করেছেন। শ্যামপুর লালমসজিদ এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা ও তানিয়া, যারা আজকের ভোটে দু’টি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন—একটি হ্যাঁ-না এবং অন্যটি সংসদীয় নির্বাচন—তারা জানান, ভোটদান তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা এবং গর্বের বিষয়।
ফাতেমা ও তানিয়া উভয়েই উল্লেখ করেন, “প্রথমবার ভোট দিতে এসেছি, খুব ভালো লাগছে। এবার দুটি ভোট। একটি হচ্ছে হ্যাঁ ও না, আরেকটি হচ্ছে সংসদ নির্বাচনের।” তাদের মুখে উল্লাসের ছাপ স্পষ্ট, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি বাড়তে থাকা আস্থা নির্দেশ করে।
ভোটের কেন্দ্রস্থল হিসেবে শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজের সামনে স্থাপিত কৌণিকটি, সকাল আটটায় পুরুষ ও নারীর দীর্ঘ লাইন দিয়ে পূর্ণ ছিল। ভোটারদের বয়স, লিঙ্গ ও পেশা বৈচিত্র্যময়, যা এলাকার সামাজিক কাঠামোর বহুমুখিতা প্রতিফলিত করে। ভোটারদের মধ্যে প্রথমবারের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া ব্যক্তিরা বিশেষভাবে নজরে এলে।
শহরের ৬৮ বছর বয়সী মো. ইস্রাফিল, শ্যামপুর কদমতলীর বাসিন্দা, ভোটের পরিবেশকে প্রশংসা করে বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হচ্ছে।” তিনি যোগ করেন, “এখানে সবাই শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলছে।” তার মন্তব্য ভোটারদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
কদমতলীর আরেকজন বাসিন্দা মো. রুবেল, যিনি আগে ভোট দিতে পারেননি, আজকের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন, “আগে দিতে পারিনি। এসে দেখি ভোট হয়ে গেছে। এবার নির্বাচনের পরিবেশ ভালো।” রুবেলের কথা থেকে স্পষ্ট হয় যে, পূর্বের বাধা সত্ত্বেও এখন ভোটাররা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা প্রায় আটটার দিকে জানান, কেন্দ্রে মোট চারটি ভোটিং বুথ রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি বুথে সাড়ে সাতটায় ভোটদান শুরু হয়েছে। একটি বুথে এক প্রার্থীর পক্ষে ভুল ভোটার তালিকা পাওয়ায় শুরুতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবে তা দ্রুত সমাধান করা হয়।
কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ১,৭২৯, এবং সাড়ে নয়টায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, দুই ঘন্টার মধ্যে ২৩০টি ভোট গৃহীত হয়েছে। এই সংখ্যা ভোটের গতি এবং অংশগ্রহণের হারকে নির্দেশ করে, যা নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভোটের দিন পর্যন্ত কোনো অশান্তি বা বিরোধের খবর পাওয়া যায়নি; ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে লাইন অনুসরণ করে এবং ভোটদান প্রক্রিয়া মসৃণভাবে চলেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তদারকি ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমবারের ভোটারদের উচ্ছ্বাস এবং উচ্চ অংশগ্রহণের হার ভবিষ্যতে পার্টিগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। উন্মুক্ত ভোটদান প্রক্রিয়া এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত পার্টির ভোটাভুটি ফলাফলে প্রতিফলিত হবে।
নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো আজকের দিনটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চালিয়ে যাবে, এবং ভোটের ফলাফল নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করা হবে। কর্মকর্তারা জানান, ভোটের গতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করা হবে।
এই ভোটদান প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে প্রথমবারের ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সমন্বয় ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।



