গোল্ডেন গার্ডেনের গুলশান‑২-এ গুলশান মডেল হাই স্কুল ও কলেজে ভোটদান শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দেশের শাসন দখলের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মত প্রকাশ করেন। তিনি ভোটের পর সরাসরি মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে ভবিষ্যৎ সরকারের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
গুলশান মডেল হাই স্কুল ও কলেজে নির্বাচনের তৃতীয় দিন ভোটদান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। ভোটের সময় তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ভোটের পর তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, “আমরা জয় অর্জনের আশায় আছি এবং শীঘ্রই সরকার গঠন করার পরিকল্পনা করছি।” তিনি এই মন্তব্যে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বিএনপি-র অবস্থানকে শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেন।
সরকার গঠনের পর তারেক রহমানের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন। তিনি বলেন, “যদি আমরা শাসন ক্ষমতা পাই, তবে প্রথম কাজ হবে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করা, যাতে নাগরিকরা নিরাপদ বোধ করে।” এই লক্ষ্যকে তিনি জনগণের মৌলিক চাহিদা হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্বীকার করেন যে এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশদ তথ্য তার হাতে পৌঁছায়নি। তবে তিনি আশাবাদী যে নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমগ্র দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পাবেন।
তারেক রহমান অতিরিক্তভাবে জানান, গত রাত্রে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সেগুলোকে দৃঢ়ভাবে সামলেছে। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপকে প্রশংসা করে বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে আমাদের শাসন ক্ষমতা থাকলে আইনশৃঙ্খলা আরও দৃঢ় হবে।”
এই ভোটদান দিনটি দেশের বিভিন্ন অংশে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তবে কিছু এলাকায় ছোটখাটো বিরোধ ও অশান্তি দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া বেশিরভাগ স্থানে সুষ্ঠুভাবে চলেছে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ruling party এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী ফলাফল প্রকাশের পর তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
যদি বিএনপি শাসন ক্ষমতা অর্জন করে, তবে তারেক রহমানের উল্লেখিত আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি বাস্তবায়ন দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে অপরাধ হ্রাস ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াতে তিনি পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিএনপি-র পূর্ববর্তী শাসনকালে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে বিভিন্ন মতামত গড়ে উঠেছিল। তারেক রহমানের বর্তমান মন্তব্যগুলো ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে শিখে নতুন দৃষ্টিকোণ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেয়।
নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হওয়ার পর ফলাফল বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, “ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনা শুরু করব।” এই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য দলগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
অবশেষে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এই ভোটদান দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তারেক রহমানের আশাবাদী বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেশের নাগরিকদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে। ফলাফল প্রকাশের পর দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে।



