দ্বিতীয় দিনের প্রথম দুই ঘন্টা ভোটদান শান্তিপূর্ণভাবে চলেছে, ভোটারদের উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। ১৩তম সংসদীয় নির্বাচন ও ২০২৬ রেফারেন্ডাম একসাথে পরিচালিত হচ্ছে, এবং ভোটদান প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোনো বড় হিংসা বা ব্যাঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর তদারকি এবং নির্বাচনী কেন্দ্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করেছে।
বৃহত্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী কর্মীদের সতর্কতা ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে। ভোটদান কেন্দ্রগুলোতে উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা গার্ড, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল স্থাপন করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য কোনো অশান্তি দ্রুত দমন করতে সক্ষম। ফলে, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছে।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও ভোটদান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী আমীর শাফিকুর রহমান, বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি কনভেনার নাহিদ ইসলাম ইতিমধ্যে ভোটদান শেষ করেছেন এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। এই নেতাদের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সঞ্চার করেছে এবং অংশগ্রহণের হার বাড়াতে সহায়তা করেছে।
প্রাথমিক ভোটার তালিকায় নারীদের এবং প্রথমবারের ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ার ফলে, ভোটের সময়সীমার প্রথম ঘন্টার মধ্যেই নারীরা ও নবীন ভোটাররা বড় সংখ্যায় ভোটদান করেছে। এই প্রবণতা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন শক্তি যোগানোর ইঙ্গিত দেয়।
রাজশাহীর ভোটদান কেন্দ্রগুলোতেও একই রকম উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটদান শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং ভোটারদের উপস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। ভোটের সময় উল্লাসের সুর শোনা গিয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অংশে চলমান নির্বাচনের ইতিবাচক চিত্রকে আরও দৃঢ় করেছে।
নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। প্রথম দুই ঘন্টার শান্তিপূর্ণ ভোটদান এবং উচ্চ অংশগ্রহণের হার পরবর্তী দিনগুলোতে ভোটের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোও এই ফলাফলকে তাদের প্রচারণা কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করে, ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ বাড়িয়ে নির্বাচনী ফলাফলের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে।



