ঢাকায় আজ সকাল ৭:৩০ টায় ১৩তম সংসদীয় নির্বাচন ও জাতীয় রেফারেন্ডামের ভোটদান শুরু হয়েছে। দেশের ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র থেকে নাগরিকরা ভোট দিতে গিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ সরকার গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্ডাম নির্ধারণের জন্য একত্রিত হয়েছে। ভোটদান সকাল ৯:৩০ টায় এস্কাটন গার্ডেন হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন নিজে ভোট দিয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ভোটকেন্দ্রের বাইরে অল্প কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, তবে সেগুলো সামগ্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় নয়। এই মন্তব্যের পর তিনি ভোটদান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
ভোটদান সকাল ৭:৩০ টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪:৩০ টা পর্যন্ত অবিরাম চলবে, এবং কোনো বিরতি ছাড়াই চলার কথা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোটাররা নির্ধারিত সময়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে ভোটদান সম্পন্ন করবে। ভোটদানের সময়সূচি এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে পূর্বে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসারে, ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটার সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১২.৭৭ কোটি ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তালিকাভুক্ত। এদের মধ্যে ৬.৪৮ কোটি পুরুষ এবং ৬.২৮ কোটি নারী ভোটার অন্তর্ভুক্ত। এই বিশাল ভোটার সংখ্যা দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরও বেশি, যা নির্বাচনের ব্যাপকতা এবং গুরুত্বকে তুলে ধরে। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেক নাগরিককে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভোটদান প্রক্রিয়ায় কোনো বৈষম্য না রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই নির্বাচন এবং রেফারেন্ডামকে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ফলাফল দেশের নীতি দিকনির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। ফলে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী ভোটারদের কাছে তাদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।
ভোটদান চলাকালীন কিছু স্থানীয় এলাকায় অল্প কিছু অশান্তি ঘটেছে, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই ধরনের ঘটনা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করে, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজনীয় বলে জোর দিয়েছে।
ভোটদান শেষ হওয়ার পর ফলাফল গণনা এবং ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। ফলাফল প্রকাশের সময়সূচি এবং পদ্ধতি সম্পর্কে পূর্বে জানানো হয়েছে, যাতে ভোটারদের আস্থা বজায় থাকে। এছাড়া, রেফারেন্ডামের ফলাফলও একই সময়ে প্রকাশ করা হবে, যা দেশের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের ভোটদান প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি থেকে স্পষ্ট হয় যে, এই নির্বাচনকে স্বচ্ছতা, ন্যায়সঙ্গতা এবং নিরাপত্তার মানদণ্ডে পরিচালনা করা হচ্ছে। ভোটদান শেষ হওয়ার পর ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



