25 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনব্যান্ড সংগীতের পুরোধা দস্তগীর হক ৬৮ বছর বয়সে কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা গেছেন

ব্যান্ড সংগীতের পুরোধা দস্তগীর হক ৬৮ বছর বয়সে কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা গেছেন

ব্যান্ড সংগীতের পুরোধা দস্তগীর হক, ৬৮ বছর বয়সে, ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল ৭:৩০ টায় কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ও গিটারিস্ট ছিলেন। মৃত্যুর খবর তার একমাত্র পুত্র মাসাব হেক নিশ্চিত করেছেন।

দস্তগীর হক দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতেন। রোগের অগ্রগতি তাকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে তুলেছিল, যা তার দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলছিল।

২১ ডিসেম্বর তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি তীব্র পর্যবেক্ষণের অধীনে ছিলেন। জানুয়ারি ৫ তারিখে তিনি হাসপাতালে থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন, তবে শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটায়। পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার রক্তক্ষরণ বৃদ্ধি পায় এবং আবার আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়।

আইসিইউতে পুনরায় ভর্তি হওয়ার পরের দিন, ১১ ফেব্রুয়ারি সকালবেলায় দস্তগীর হক মৃত্যুবরণ করেন। তার শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা দল সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যান, তবে রোগের জটিলতা তাকে ছাড়তে না পারা সম্ভব হয়নি।

দেহান্তের পর, দস্তগীর হককে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবার ও বন্ধুজনের উপস্থিতিতে সমাধি অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস ব্যান্ডটি ১৯৭২ সালে গঠিত হয় এবং বাংলাদেশের আধুনিক ব্যান্ড সংগীতের সূচনালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দস্তগীর হক ব্যান্ডের লিড ভোকাল ও গিটারিস্ট হিসেবে তার স্বতন্ত্র সুর ও গীতিকবিতার মাধ্যমে তরুণ সমাজের হৃদয় জয় করে।

ব্যান্ডের সঙ্গীত পরিবেশনা সেই সময়ের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে। দস্তগীরের কণ্ঠস্বর ও গিটার বাজানোর শৈলী আজও স্মরণীয়।

দস্তগীর হক একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবারের সন্তান। তার বড় ভাই নয়ন মুন্সী, দেশের অন্যতম কিংবদন্তি গিটারিস্ট, এবং ছোট ভাই আলমগীর হক পাকিস্তানের জনপ্রিয় শিল্পী।

বোন জর্জিনা হক বাংলাদেশের প্রথম নারী ড্রামার হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৭২ সালে তিনি স্পন্দন ব্যান্ডের সঙ্গে ড্রামস বাজিয়ে সঙ্গীত জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।

এই পরিবার বহু দশক ধরে উপমহাদেশের সঙ্গীত ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তাদের সৃষ্টিকর্ম ও পারফরম্যান্স দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।

দস্তগীর হকের মৃত্যুর সংবাদে দেশের সঙ্গীতাঙ্গন শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। সহকর্মী শিল্পী, সঙ্গীতপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীরা তার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছেন।

অনেকেই তাকে নিরহংকারী, মেধাবী এবং সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা শিল্পী হিসেবে স্মরণ করছেন। তার সৃষ্টিগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

দস্তগীর হকের বিদায়ের পর, সঙ্গীত জগতে তার অবদানকে স্মরণ করে বিভিন্ন সম্মাননা ও স্মরণসভা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার সুর ও আত্মা সবার হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments