ইলেকশন কমিশন আজ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পূর্বে ভোটাররা ভোটার নম্বর এবং ভোটিং সেন্টার সম্পর্কিত তথ্য পেতে পাঁচটি ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ভোটারদের সঠিক তথ্য সরবরাহ করে ভোটের দিন কোনো বিভ্রান্তি না হওয়া নিশ্চিত করা।
প্রথম পদ্ধতি হল এসএমএস সেবা, যেখানে ভোটাররা তাদের মোবাইলের টেক্সট মেসেজ অপশন থেকে ‘PC NID নম্বর’ টাইপ করে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে পারেন। পাঠানো বার্তার মাধ্যমে ভোটারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ভোটার নম্বর এবং নির্ধারিত ভোটিং সেন্টারের ঠিকানা জানানো হবে। এই সেবা দেশের যেকোনো কোণ থেকে ব্যবহার করা সম্ভব, ফলে দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় উপায় হল ইলেকশন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য অনুসন্ধান। ভোটাররা https://services.nidw.gov.bd/voter_center ঠিকানায় গিয়ে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অথবা ভোটার ফর্ম নম্বর, জন্মতারিখ এবং ক্যাপচা কোড প্রদান করতে হবে। তথ্য সঠিকভাবে প্রবেশ করানোর পর ‘See Voter Information’ বোতামটি ক্লিক করলে ভোটারকে তার নির্বাচনী এলাকা, ভোটার সিরিয়াল, ভোটিং সেন্টার এবং এনআইডি নম্বরসহ সম্পূর্ণ বিবরণ দেখানো হবে।
তৃতীয় পদ্ধতিতে বিশেষ দিকটি হল ১৩ অঙ্কের এনআইডি নম্বরধারী ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন। এই ভোটারদের এনআইডি নম্বরের আগে তাদের জন্মবছর যুক্ত করে পূর্ণ নম্বরটি প্রবেশ করাতে হবে, নতুবা সিস্টেম তথ্য গ্রহণে ব্যর্থ হতে পারে। এই শর্তটি ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান নিশ্চিত করতে এবং ডেটাবেসের সঠিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
চতুর্থ উপায় হিসেবে ইলেকশন কমিশন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে, যা ভোটারদের স্মার্টফোনে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে। অ্যাপটি https://services.nidw.gov.bd/resources/forms/PollingCenter.apk লিঙ্ক থেকে ডাউনলোড করা যায় এবং ইনস্টল করার পর সরাসরি ভোটার নম্বর ও ভোটিং সেন্টার তথ্য অনুসন্ধান করা সম্ভব। অ্যাপের ইন্টারফেস সহজ এবং দ্রুত ফলাফল প্রদান করে, যা বিশেষত তরুণ ভোটারদের জন্য আকর্ষণীয়।
পঞ্চম পদ্ধতি হল হটলাইন ১০৫ নম্বরে কল করে তথ্য সংগ্রহ করা। হটলাইনটি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে এবং ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে। ফোনের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য পাওয়া ভোটারদের জন্য সময় সাশ্রয়ী এবং সহজ বিকল্প।
এছাড়াও, ভোটাররা প্রদত্ত কিউআর কোড স্ক্যান করে দ্রুত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে পারেন। কিউআর কোডটি ভোটারদের স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নিয়ে যাবে, যেখানে একইভাবে ভোটার নম্বর এবং ভোটিং সেন্টার তথ্য দেখা যাবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটাররা কোনো টেক্সট বা ফোন নম্বর না লিখেও দ্রুত তথ্য পেতে সক্ষম।
নির্বাচনের দিন সকল ভোটিং সেন্টারে বড় ব্যানার স্থাপন করা হবে, যেখানে প্রতিটি ভোটারকে তার নির্ধারিত ভোটার নম্বর এবং ভোটিং রুমের নাম স্পষ্টভাবে দেখানো হবে। এই দৃশ্যমান ব্যবস্থা ভোটারদের সঠিক কক্ষে প্রবেশে সহায়তা করবে এবং ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে।
ইলেকশন কমিশনের এই বহুমুখী সেবা ভোটারদের জন্য তথ্যপ্রাপ্তি সহজতর করে, ফলে ভোটার তালিকায় নামের সঠিকতা এবং ভোটিং সেন্টার অবস্থান সম্পর্কে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না। ভোটারদেরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে যে, নির্বাচনের পূর্বে উপরের যেকোনো পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের ভোটার তথ্য নিশ্চিত করে ভোটার তালিকায় নাম সঠিকভাবে আছে কিনা যাচাই করুন। এভাবে ভোটারদের জন্য ভোটের দিন কোনো বিভ্রান্তি না থেকে নির্ভুলভাবে ভোটদান নিশ্চিত হবে।
সকল ভোটারকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, নির্ধারিত সময়ে হটলাইন ১০৫-এ কল করে অথবা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য যাচাই করে ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন। এটি ভোটার সচেতনতা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা বাড়াবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য এই সেবাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবার অংশগ্রহণে সফল হবে নির্বাচন। এটি দেশের গণতন্ত্রের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করবে।



