গাইবান্ধা জেলায় গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী) আসনের ভোটকেন্দ্রের উত্তরে অবস্থিত একতলা বাড়ি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮:৩০ টার দিকে পুলিশ দল প্রায় দুইশোটি বাঁশ ও গাছের ডালের লাঠি বাজেয়াপ্ত করেছে। এই বাড়ি জামাতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের জেলা নেতা আল-আমিনের নামে নিবন্ধিত, যিনি স্থানীয় আওয়াজে আহম্মদ আলীর পুত্র হিসেবে পরিচিত। অপারেশনের সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত না থাকায় কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
বুজরুক বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের ঠিক পাশে এই বাড়িটি অবস্থিত, যা ভোটের দিন নাগরিকদের প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। বাড়িটি একতলা কাঠের নির্মাণ, উত্তর দিকের দিকে ভোটকেন্দ্রের সংলগ্ন, যা পূর্বে স্থানীয় সংবাদে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার বিষয় ছিল।
পুলিশের গোপন সূত্রের ভিত্তিতে রাতের অন্ধকারে দলটি বাড়িতে প্রবেশ করে। অপারেশনটি পলাশবাড়ী থানা থেকে বরাদ্দপ্রাপ্ত ওয়ান-সিনিক অফিসার (ওসি) সরোয়ারে আলম খান তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির উত্তর দিকের একতলা ভবনে দ্রুত অভিযান চালানো হয় এবং লাঠিগুলি নিরাপদে সংগ্রহ করা হয়।
বাঁশের লাঠি এবং গাছের ডালের মোট সংখ্যা প্রায় দুইশোটি, যা স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার মতে, ভোটের সময় বা পরে অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। লাঠিগুলি সাধারণত রাস্তায় প্রতিবাদ, গলায় গুলিবিদ্ধি বা ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অশান্তি সৃষ্টির জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই, সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা নিরাপত্তা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আল-আমিন, যিনি জামাতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বে আছেন, তিনি স্থানীয় সমাজে সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি আহম্মদ আলীর পুত্র এবং ওয়ার্ড জামাতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বশীল নেতা, যা তাকে স্থানীয় রাজনৈতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরে রাখে। তার বাড়িতে লাঠি পাওয়া যাওয়ায়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তার ভূমিকা ও সম্ভাব্য দায়িত্ব নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান উল্লেখ করেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাতের অর্ধেক ঘণ্টা আগে অভিযান চালানো হয় এবং লাঠিগুলি নিরাপদে সংগ্রহ করা হয়। তিনি বলেন, বাড়িতে কোনো ব্যক্তি উপস্থিত না থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, তবে লাঠি সংগ্রহের পর বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর আইনগত প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অস্ত্র বা সামগ্রী সঞ্চয় করা বাংলাদেশ নির্বাচনী আইন ও দণ্ডবিধির অধীনে অপরাধ। সংশ্লিষ্ট বিভাগে লাঠি সংগ্রহের পর, তদন্তকারী দল প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য অপরাধীর তালিকা তৈরি করবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে, আদালতে দায়ের করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হবে।
অভিযানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচনী কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করবে। এছাড়া, জামাতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের নেতৃত্বের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলাকালীন, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যথাযথ নোটিশ পাঠানো হবে এবং আদালতে উপস্থিত হতে বলা হবে।
এই ঘটনাটি স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যা ভোটের সময় অশান্তি সৃষ্টির সম্ভাব্য উপকরণগুলোর উপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সদস্যদের আইন মেনে চলার এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হবে। সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও নাগরিককে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত প্রদান করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।



