১৩ই জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের দিন নাগাদ ভোটাররা পার্টি চিহ্নের চেয়ে প্রার্থী-ভিত্তিক স্থানীয় জনপ্রিয়তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ভোটাররা নিজেদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, সহজলভ্য এবং স্থানীয় সমস্যায় সাড়া দিতে সক্ষম প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে চান।
সিলেটের সুনামগঞ্জ-২ আসনে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যক্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক লড়াই চলে আসছে। প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নাম এখনও এতটাই প্রভাবশালী যে বিএনপি’র নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও জামাতের ব্যারিস্টার শিশির মানির প্রায়ই তাদের প্রচারণায় সুরঞ্জিতের নাম উল্লেখ করেন। জাগদল ইউনিয়নের পার্থা রে উল্লেখ করেন, সুরঞ্জিত বারবার জয়লাভ করলেও এই আসনকে আওয়ামী লীগ আসন নয়, বরং তার ব্যক্তিগত আসন হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রশান্ত সাগর দাসের মতে, হাওরের এই অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল। শেষ পর্যন্ত ফলাফল প্রার্থীর ব্যক্তিগত চিত্রের ওপর নির্ভর করবে। হিন্দু ভোটারদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হওয়ায় উভয় প্রার্থীই এই সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে স্থানীয় নেটওয়ার্ক ও সুনামকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছেন।
চট্টগ্রামে ভোটারদের সঙ্গে কথোপকথনে দেখা যায়, অনেকেই প্রার্থী-কেন্দ্রিক সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেন এবং স্থানীয় সমস্যাকে প্রথম স্থানে রাখেন। চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামাতের শফিউল আলম, যিনি পূর্বে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন, বিএনপি’র ভারীপ্রাপ্ত আমির খাসরুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হালিশহরের বেলাল হোসেন জানান, তাদের জন্য প্রার্থীর ব্যক্তিত্বই পার্টি চিহ্নের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বৌলখালী ও বংশখালিতে একই রকম মতামত শোনা যায়। ফরিদপুরের এক ভোটার ফারজানা আখতার পারুল উল্লেখ করেন, স্থানীয় ভোটের সুবিধা পেয়ে যে প্রার্থী জয়ী হবে, সেটাই মূল বিষয়। হালিশহরের মতই, জেসমিন আকতারও প্রার্থীর চিত্র ও নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, তারা স্থানীয় মানুষ এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত চিত্রের ভিত্তিতে ভোট দিতে চান।
ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপি’র নায়েবা ইউসুফ আহমেদ দীর্ঘস্থায়ী স্থানীয় সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই সব উদাহরণ দেখায় যে, পার্টি চিহ্নের চেয়ে প্রার্থীর স্থানীয় পরিচয়, সুনাম ও নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে।
এ ধরনের প্রবণতা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যেখানে প্রার্থীর ব্যক্তিগত সুনাম ও স্থানীয় নেটওয়ার্ক শক্তিশালী। পার্টি নেতারা এখনো এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে প্রার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যাতে ভোটারদের স্থানীয় চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণ করা যায়।



