ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হ্যারি ব্রুক বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ের ওয়াংখেডে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯৭ রানের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়ে ৩০ রানের পার্থক্যে হারে। ম্যাচটি টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের অংশ এবং ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ও বলিং উভয় দিকেই ঘাটতি প্রকাশ পায়।
ব্রুক ম্যাচের পর প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, ইংল্যান্ডের বলিং ইউনিট অতিরিক্ত ১৫‑২০ রানের বেশি দেবে, যা ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, “আমরা বলের ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকরভাবে চালাতে পারিনি, ফলে তারা আমাদের থেকে বেশি রন সংগ্রহ করেছে।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে ইংল্যান্ডের বোলাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের ওপর যথাযথ চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি।
ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা ছিল সন্ধ্যায় ঘন ঘন ডিউ (আর্দ্রতা) থাকায় ব্যাটিং সহজ হবে, তবে বাস্তবে ডিউ তেমন না হওয়ায় বলটি ব্যাটের ওপর যথাযথভাবে স্লাইড করতে পারেনি। ব্রুক উল্লেখ করেন, “আমরা ডিউয়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু তা প্রত্যাশার মতো হয়নি, ফলে বলটি আমাদের প্রত্যাশিতভাবে ঘুরে না।” ডিউয়ের অভাবের ফলে রোলার এবং স্পিনের ব্যবহারেও সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯৭ রানের লক্ষ্যকে ইংল্যান্ডের দৃষ্টিতে চ্যাসেবল (ধরা যায়) বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে ইংল্যান্ডের শীর্ষ ব্যাটসম্যানরা লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট রন সংগ্রহ করতে পারেনি, ফলে শেষ ওভারে ৩০ রানের পার্থক্যে হারে। ব্রুকের মতে, “আমরা লক্ষ্যটি চ্যাসেবল বলে ভেবেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা অর্জন করতে পারিনি।” এই মন্তব্যে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের ঘাটতি স্পষ্ট হয়।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিকভাবে রন তৈরি করেছে, যেখানে ইংল্যান্ডের বোলাররা প্রত্যাশিত গতি ও স্পিন বজায় রাখতে পারেনি। ব্রুক বললেন, “আমাদের বলিং এক্সিকিউশন যথেষ্ট ছিল না, ফলে তারা অতিরিক্ত রন সংগ্রহ করেছে।” এই স্বীকারোক্তি ইংল্যান্ডের বলিং কৌশলের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
ইংল্যান্ডের কোচিং স্টাফও ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলার চেষ্টা করেছে, ডিউয়ের পূর্বাভাসে ভুল ছিল এবং স্পিনের ব্যবহার যথাযথভাবে না হওয়ায় ব্যাটসম্যানদের সুবিধা কমে গিয়েছিল। তবে তারা উল্লেখ করেছে, দলের মনোবল এখনও উচ্চ এবং পরবর্তী ম্যাচে পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অন্য একটি দল, যা তাদের পুনরুদ্ধার এবং কৌশলগত পরিবর্তনের সুযোগ দেবে। ব্রুকের মতে, “আমরা এই হারের থেকে শিখে পরের ম্যাচে আরও সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে খেলব।” এই দৃঢ়সঙ্কল্প ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়কে টিমের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ব্যাটিং লাইনআপ লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হয়েছে এবং বলিং ইউনিটও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রন দমন করতে পারেছে। ইংল্যান্ডের তুলনায় তাদের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন বেশি সুনির্দিষ্ট ছিল।
ম্যাচের শেষে ব্রুকের মন্তব্যে স্পিনের প্রতি কোনো উদ্বেগ নেই, তিনি বলেন, “স্পিনের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো সমস্যা নেই, তবে বলিং এক্সিকিউশন উন্নত করা দরকার।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইংল্যান্ডের স্পিনাররা এখনও তাদের ভূমিকা পালন করতে সক্ষম, তবে সামগ্রিক বলিং কৌশলে সামঞ্জস্যের প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক স্বীকার করেছেন যে দলটি অতিরিক্ত রন দেবে এবং ডিউয়ের পূর্বাভাসে ভুল করেছে, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ১৯৭ রনকে চ্যাসেবল করে তুললেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ও বলিং উভয় দিকেই ঘাটতি থেকে হারে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে ইংল্যান্ডের পুনরুদ্ধার ও কৌশলগত পরিবর্তনই তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের চাবিকাঠি হবে।



