বাংলাদেশের ২৯৯টি নির্বাচনী এলাকা জুড়ে ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম-২০২৬ একসাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটদান সকাল ৭:৩০ টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪:৩০ টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে, মোট ৪২,৭৭৯টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে।
জাতীয় সিটিজেন পার্টির (NCP) সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলাম, যিনি ঢাকা‑১১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সকালবেলায় বাড্ডার এ.কে.এম. রাহমতুল্লাহ কলেজে গিয়ে তার প্রথম ভোট দিয়েছেন। তিনি ভোটের সহজ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সকল নাগরিককে ভোট দিতে আহ্বান জানান।
বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাকুরগাঁও সরকারি গার্লস হাই স্কুলের ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৭:৪০ টায় ভোট দেন। তার উপস্থিতি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
গাজীপুরে বহু ভোটার সকালবেলায় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সামনে জমায়েত হন। পুরুষ ও নারী উভয়ই ভোটের জন্য লাইন গড়ে তুলেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গাজীপুরের একটি ভোটকেন্দ্রের সভাপতি মোহাম্মদ ইস্মাইল হোসেন জানান, কেন্দ্রে মোট ৩,৩৬০টি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে এবং ১২টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের চারপাশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।
স্থানীয় একটি অজানা বিএনপি কর্মীর মতে, বিএনপি প্রার্থী এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলন সকাল ৮:০০ টার মধ্যে একই কেন্দ্রে ভোট দিতে প্রত্যাশিত। এই তথ্য ভোটগ্রহণের সময়সূচি ও প্রার্থীর উপস্থিতি সম্পর্কে ভোটারদের সচেতনতা বাড়ায়।
সারা দেশে ভোটদান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেরওয়ারা, মনিপুর হাই স্কুলের মত এলাকায়ও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সকাল ৬:০০ টা থেকে মনিপুর হাই স্কুলে ভোটাররা একত্রিত হন, প্রার্থনা শেষে ভোট দিতে আসা বাসিন্দারা দ্রুত ভোটকেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যান। ৩৬ বছর বয়সী মো. নাসিরুদ্দিন, মনিপুর কাথালতলা থেকে ভোট দিতে আসা এক ভোটার, তিনি বলেন যে তিনি সময়ের আগে ভোট দিতে চেয়েছিলেন যাতে ভোটের প্রক্রিয়ায় কোনো বিলম্ব না হয়।
এই নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম দেশের পরবর্তী সরকার গঠন এবং জাতীয় নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হলে পার্টিগুলোকে কংগ্রেসে তাদের জোট ও কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে, বিশেষ করে রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, র্যাঙ্কস ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের সময় কোনো প্রতিবন্ধকতা বা অশান্তি রিপোর্ট করা যায়নি, যা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নির্দেশ করে।
প্রতিটি ভোটারকে ভোটের গুরুত্ব ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে, এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচনী কমিশন কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভোটের শেষ সময় পর্যন্ত ভোটদান অব্যাহত থাকবে, এবং ফলাফল ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট নতুন করে গঠিত হবে।



