গণ-অভ্যুত্থানের পর দেড় বছর কেটে, আজ বৃহস্পতিবার দেশের নাগরিকরা নির্বাচিত সরকার গঠনের পাশাপাশি সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য গণভোটে অংশগ্রহণ করবে। ভোটদান সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলবে, এবং ফলাফল সুষ্ঠু হলে গণতান্ত্রিক উন্নয়নের প্রথম ধাপ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসীর উদ্দিন আজকের প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ, সুন্দর এবং উৎসবমুখর করার আহ্বান জানিয়েছেন, এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভোট গ্রহণের সময়সূচি নির্ধারিত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে গৃহীত হয়েছে।
এই নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী দুই বড় দল, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, সরাসরি মুখোমুখি হবে না; প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি এবং জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। প্রথমবারের মতো জামায়াত-এ-ইসলামি জাতীয় নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থিত হয়েছে, যা রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে।
মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি, যার মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সের প্রায় পাঁচ কোটি ভোটার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী, যা ভোটের ফলাফলে লিঙ্গ সমতা ও যুব শক্তির প্রভাব বাড়িয়ে তুলবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, তরুণ ও নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে সংবিধান সংশোধনের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের ক্ষেত্রে। এই গোষ্ঠীর ভোটের প্রবণতা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাবশালী হতে পারে।
২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার ফলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসে। তৎপরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর ২০১১ সালে দ্রুত সংবিধান সংশোধন করা হয়, যা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের ভিত্তি তৈরি করে।
সেই সংশোধনের পর থেকে, ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে শেখ হাসিনার সরকার ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী রূপ ধারণ করে, এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হতে থাকে। এই পরিবর্তনকে নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
দলীয় শাসনের অধীনে তিনটি জাতীয় ও বহু স্থানীয় নির্বাচনের বিতর্কিত পরিচালনা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ফলস্বরূপ, নির্বাচনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা হ্রাস পেয়েছে।
পতনের পূর্বে, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বহু মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শীর্ষে থাকা শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিবাদী হিসেবে সমালোচকরা চিহ্নিত করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতিত হওয়ার পর এই সমালোচনা আরও তীব্রতর হয়।
আজকের ভোটদান এবং সংবিধান সংশোধনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাগণনা হয়, তবে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে; অন্যথায় বর্তমান কাঠামো বজায় থাকবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক নীতির পুনর্গঠন দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হবে।



