25 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাখেলাধুলা উপদেষ্টা নাফিস আহমেদ নাদভীর মন্তব্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের দায়িত্বে...

খেলাধুলা উপদেষ্টা নাফিস আহমেদ নাদভীর মন্তব্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের দায়িত্বে প্রশ্ন

বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্প্রদায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রেস সম্মেলনে নাফিস আহমেদ নাদভীর উল্টো মন্তব্যে বিস্মিত ও অশান্তি প্রকাশ করেছে। তিনি বলেছিলেন, আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়া টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের দায়িত্ব পুরোপুরি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের উপর। এই বক্তব্যের ফলে টিমের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে সরকারী সিদ্ধান্তের পরিবর্তে খেলোয়াড় ও বোর্ডের স্বেচ্ছা ত্যাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রেস মিটিংয়ে নাফিস আহমেদ নাদভী স্পষ্ট করে বলেন, “এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেটারদের দ্বারা নেওয়া হয়েছে। তারা দেশের ক্রিকেটের নিরাপত্তা ও জনগণের সুরক্ষার জন্য নিজেরা ত্যাগ স্বীকার করেছে। তাদের ভূমিকা বাংলাদেশের গৌরব রক্ষায় উদাহরণস্বরূপ থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ত্যাগের ফলে দেশের গৌরব রক্ষা পাবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে হবে।

এই মন্তব্যটি তার ২২ জানুয়ারি দেওয়া এক পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধপূর্ণ, যখন তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় মাটিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকারী নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। সেই সময়ে তিনি বলেছিলেন, “আমি সবাইকে স্পষ্ট করে জানাচ্ছি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বিশ্বকাপ না খেলা সরকারী সিদ্ধান্ত।” দুই দিনের পর আইসিসি বাংলাদেশকে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে বদলিয়ে দেয়, ফলে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ শেষ হয়ে যায়।

খেলোয়াড়রা এই উল্টো অবস্থানকে অস্বীকারের স্বরে প্রকাশ করেছে। একাধিক খেলোয়াড় গোপনীয়তা বজায় রেখে তাদের অসন্তোষ জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করার সময়ই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নেওয়া ছিল, ফলে তাদের মতামত শোনার কোনো সুযোগই না থাকে। এই পরিস্থিতি তাদের মানসিকভাবে আঘাত করেছে, কারণ তারা একটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার শোক কাটিয়ে চলেছে।

একজন খেলোয়াড় মন্তব্য করেছেন, “এটা বেশ অদ্ভুত।” অন্যজন হাস্যরসের সঙ্গে যোগ দেন, “আপনি যা শুনেছেন, সেটাই তিনি বলছেন!” আরও একটি খেলোয়াড় যোগ করেন, “আমাদের কাছে বলার মতো কিছু নেই, আমরা সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। আমরা এই বাদ পড়ার সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকা রাখিনি, তাই কী বলব জানি না।” এই কথাগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, খেলোয়াড়রা নিজেদের অবস্থান নিয়ে অসহায় বোধ করছেন এবং কোনো দিক থেকে সমর্থন পাচ্ছেন না।

নাফিস আহমেদ নাদভীর এই উল্টো মন্তব্যের ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বোর্ডের অভ্যন্তরে এবং বাহ্যিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন সরকারী নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তকে পরে খেলোয়াড় ও বোর্ডের ত্যাগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই অসঙ্গতি ভবিষ্যতে অনুরূপ সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

ইতিহাসগতভাবে, বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া একটি বিরল ঘটনা, এবং এর ফলে দেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং ও খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারেও প্রভাব পড়তে পারে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখনও অন্যান্য সিরিজ ও টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এই ঘটনার পরিণতি নিয়ে বিশ্লেষক ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত অব্যাহত রয়েছে।

সারসংক্ষেপে, নাফিস আহমেদ নাদভীর উল্টো মন্তব্য ক্রিকেট সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষের সঞ্চার করেছে। সরকারী নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তকে পরে বোর্ড ও খেলোয়াড়ের ত্যাগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে, সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। খেলোয়াড়দের গোপনীয়তা বজায় রেখে প্রকাশিত অসন্তোষ ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্টতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments