সকাল ৭:৩০ টায় দেশের ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম শুরু হয়েছে। ভোটদান ৪:৩০ টা পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে চলবে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত।
ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী মোট ১২.৭৭ কোটি ভোটার—৬.৪৮ কোটি পুরুষ ও ৬.২৮ কোটি নারী—এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সকল নাগরিককে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই নির্বাচনটি ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণবিক্ষোভের ১৮ মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা শীঘ্রই শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করেছিল। ঐ আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাড়ে, এবং এই ভোটকে গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সাথে ভোটাররা জুলাই জাতীয় চুক্তি নিয়ে রেফারেন্ডামেও অংশ নেবে, যা সংবিধান ও প্রতিষ্ঠানগত সংস্কারের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করে। রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস টেলিভিশনে জাতীয় সম্প্রচারে ভোটারদেরকে “নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন” হিসেবে এই দিনটি পালন করতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের ফলাফলই দেশের ভবিষ্যৎ ইতিহাস রচনা করবে।
মোট ১,৭৫৫ প্রার্থীর মধ্যে ৫০টি নিবন্ধিত দল অংশগ্রহণ করছে, যার মধ্যে ২৯৯টি আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হবে, এবং ৬৩টি আসনে নারী প্রার্থী রয়েছে। স্বাধীন প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৩, যার মধ্যে ২০টি আসনে নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে, ফলে ঐ আসনের ভোটদান পরবর্তীতে নির্ধারিত হবে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
২০ দিনের তীব্র প্রচারাভিযান শেষ হয়ে গতকাল বিকেলে শেষ হয়েছে, যা বহু মাসের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে একক ভোটদিবসে সংকুচিত করেছে। এখন ভোটারদের সিদ্ধান্তই দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
প্রায় এক মিলিয়ন আইন প্রয়োগকারী কর্মী দেশের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে ভোটের সময় শৃঙ্খলা বজায় থাকে। ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ৯,৭০,৯৪৮ জন নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্বে আছেন, যার মধ্যে ১,০০,০০৩ জন সেনাবাহিনীর সদস্য এবং ৫,০০০ জন নৌবাহিনীর কর্মী অন্তর্ভুক্ত।
বিপক্ষের দলগুলো ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আহ্বান জানিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটদানকে উৎসাহিত করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, ফলাফল যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় তবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।
এই নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের শাসন কাঠামো, নীতি নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ সরকারের গঠনকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।



