কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ি এলাকায় বুধবার রাত প্রায় ১০:৩০ টায় জাতীয় নাগরিক দলের (JNP) কুড়িগ্রাম‑২ আসনের প্রার্থী আতিকুর রহমানের ব্যবহার করা গাড়ি লক্ষ্য করে একটি দলীয় আক্রমণ সংঘটিত হয়। আতিকুরের ছোট ভাই আশিকুর রহমানসহ মোট পাঁচজন আহত হয়; গাড়িতে যাত্রা করা সময়ে হামলাকারীরা গাড়িটিকে লক্ষ্য করে রড ও হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে, পরে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিষে ফেলে। গুরুতর অবস্থায় আঘাতপ্রাপ্ত আশিকুর রহমানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আতিকুর রহমানের মতে, হামলায় প্রায় ৩৫ জন ব্যক্তি অংশ নেয়, যার মধ্যে ছাত্রদল (Chhatra Dal) নেতারা আমিমুল, শাওন এবং সোহেল অন্তর্ভুক্ত। তিনি জানান, রাতের অন্ধকারে গাড়ি চালানোর সময় তার ওপর আক্রমণের সম্ভাবনা ছিল এবং হামলাকারীরা গাড়িতে তার উপস্থিতি অনুমান করে হিংসাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
হামলার পর আতিকুর পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ গার্ড (BGB) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তবে তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়বে। এরপর তিনি শাপলা চত্বরে দলীয় নেতা‑কর্মীদের সমাবেশের আহ্বান জানান, পরে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
পুলিশের লিখিত অভিযোগের পরামর্শে আতিকুর রাত একটায় সমাবেশ ত্যাগ করেন। কুড়িগ্রাম সদর থানার ওয়্যারিং অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গাড়িতে হামলা ও আহতদের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলে তদন্ত শুরু হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামলাকারী সোহেলের মোবাইল নম্বর পরীক্ষা করার সময় তা বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। জাতীয় ছাত্রশক্তি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সদস্যসচিব সাদিকুর রহমানের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, নির্বাচনের আগের রাতে এই ধরনের আক্রমণ ভোটারদের ভয় দেখানোর এবং কেন্দ্র দখলের প্রচেষ্টা হতে পারে। তিনি সতর্ক করেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভোটের দিন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার বা দায়িত্ব নির্ধারণে অগ্রগতি জানায়নি। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আপডেট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



