18 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভোরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

ভোরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

সকাল ৭ টার আগে ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিপর্বের সূচনাকে চিহ্নিত করে। নারী‑পুরুষ, তরুণ‑বৃদ্ধ সহ নানা বয়সের নাগরিকরা নির্ধারিত সময়ের আগে কেন্দ্রে পৌঁছে, ভোটের জন্য শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে। এই প্রাথমিক উপস্থিতি ভোটগ্রহণের সূচনাকে মসৃণ করার উদ্দেশ্যে ভোটারদের আগ্রহ ও সচেতনতা প্রকাশ করে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে সরেজমিনে, ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিক সূচনা সকাল সাড়ে সাতটায় হলেও ভোটাররা তার কয়েক মিনিট আগে থেকেই কেন্দ্রে জমা হয়। কিছু কেন্দ্রে মূল প্রবেশদ্বারের সামনে ভোটারদের অপেক্ষা করার দৃশ্য দেখা গিয়েছে, যেখানে তারা নথিপত্র প্রস্তুত করে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লাইন গঠন করেছে। এই প্রাক‑সকালীন ভিড়ের মূল কারণ হিসেবে ভোটের সুষ্ঠু পরিচালনা ও সম্ভাব্য ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে আগাম উপস্থিতি উল্লেখ করা হয়।

খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকার একটি কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা আবদুল কাদের বলেন, “সকাল সকাল চলে এসেছি। পরে ভিড় বাড়লে ঝামেলা হতে পারে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই।” তার বক্তব্য ভোটারদের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে।

রামপুরার সালামবাগ জামে মসজিদ কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ জামাল হোসেন জানান, “অনেকদিন পর ভোট নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখছি। তাই দেরি না করে চলে এসেছি।” তিনি ভোটের পরিবেশকে উৎসবমুখর রাখতে এবং সকলের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।

একই কেন্দ্রে প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণ সিয়াম হোসেন যোগ করেন, “প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছি। তাই একটু উত্তেজনাও কাজ করছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হোক—এটাই চাই।” তার উচ্ছ্বাস নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।

মো. মহিউদ্দিন ফজরের নামাজ শেষে কয়েকজনের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে, “সকাল সকাল ভোট দিয়ে বাসায় ফিরব,” বলে তার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তার মতামত ভোটের দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা তুলে ধরে।

ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটারদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে এবং শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ভোটদান সরঞ্জাম, ভোটার তালিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পূর্বেই স্থাপন করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি কেন্দ্রে ও আশেপাশে দৃশ্যমান, যা ভোটগ্রহণের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে। নিরাপত্তা কর্মীরা ভোটারদের প্রবেশদ্বার থেকে ভোটকক্ষ পর্যন্ত পথনির্দেশনা প্রদান করে এবং কোনো অশান্তি ঘটলে তা দ্রুত দমন করার প্রস্তুতি নিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনও পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোটগ্রহণকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে, পাশাপাশি পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা কর্মী মাঠে উপস্থিত থাকবে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ভোটের ফলাফলকে সঠিকভাবে রেকর্ড করা এবং কোনো অনিয়মের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যায়, ভোটারদের আগাম উপস্থিতি এবং কেন্দ্রে শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা ভোটগ্রহণের সুষ্ঠু পরিচালনার ভিত্তি গড়ে তুলছে। নির্বাচনের প্রথম দিনেই এই ধরণের প্রস্তুতি ও নাগরিক অংশগ্রহণের উচ্চ মাত্রা ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে তা এখনও নির্ধারিত হবে ফলাফল ঘোষণার পর। বর্তমান পর্যায়ে, ভোটগ্রহণের সূচনা নির্ধারিত সময়ে শুরু হওয়া এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রচেষ্টা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments