অ্যামস্টারডামের ডি পিপ্ পাড়া এলাকায় অবস্থিত ছোট ব্যবসা Positivity Branding, সাত বছর আগে নিজস্ব কর্মচারীদের জন্য চার‑দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করে। প্রতিষ্ঠাতা গ্যাভিন আর্ম ও সহ‑প্রতিষ্ঠাতা বার্ট দে উইটের মতে, এই পরিবর্তনটি কর্মচারীদের পারিবারিক জীবনের গুণগত মান উন্নত করতে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছিল।
কোম্পানির কর্মঘণ্টা ৩২ ঘণ্টা প্রতি সপ্তাহে রাখা হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিদিন আট ঘণ্টা কাজ করা হয়। বেতন কোনো হ্রাস না করে এবং অতিরিক্ত সময় কাজের চাপ না বাড়িয়ে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। ফলে কর্মচারীরা একই আয় নিয়ে বেশি অবসর সময় উপভোগ করতে পারে।
গ্যাভিন আর্ম উল্লেখ করেন, সন্তানদের সঙ্গে কাটানো সময় একবারই আসে; অতীতের দিকে ফিরে দেখলে কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিবারিক মুহূর্ত হারিয়ে যাওয়া দুঃখজনক। তিনি বলেন, কর্মচারীদের জন্য কাজ‑জীবনের সমতা বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদে সংস্থার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
বার্ট দে উইট যুক্তি দেন, কর্মক্ষমতা বাড়াতে সময়ের পরিমাণ নয়, কাজের পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি “স্মার্ট কাজ, না যে কঠিন কাজ” ধারণা তুলে ধরেন, যেখানে কর্মচারীরা কম সময়ে বেশি ফলাফল অর্জন করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি কর্মস্থলের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
তবে, কর্মসংস্কৃতির পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নেদারল্যান্ডের কিছু শিল্পে দীর্ঘ সময় কাজ করা স্বাভাবিক, কিন্তু কাজের মান ও ফলাফলকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানসিকতা বদলাতে সময় লাগে। এই পরিবর্তনকে সমর্থন করার জন্য নেতৃত্বের দৃঢ় ইচ্ছা প্রয়োজন।
চার‑দিনের কর্মসপ্তাহ নেদারল্যান্ডের বেশিরভাগ সংস্থায় এখনো প্রায় সাধারণ হয়ে উঠেছে। বড় বড় কোম্পানিগুলিও এই মডেল গ্রহণ করে, যা শ্রমিক বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ফলে কর্মচারীদের সন্তুষ্টি ও সংস্থার প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের বৃহত্তম শ্রমিক ইউনিয়ন FNV সরকারকে এই ব্যবস্থা সরকারি সুপারিশে রূপান্তরিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। ইউনিয়ন দাবি করে, চার‑দিনের কর্মসপ্তাহকে জাতীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করলে কর্মসংস্থানের গুণগত মান উন্নত হবে এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বজায় থাকবে।
এছাড়া, নেদারল্যান্ডের শ্রমিক আইন ইতিমধ্যে কর্মচারীদের কাজের সময় কমানোর অধিকার প্রদান করে। কর্মচারীরা স্বেচ্ছায় কাজের ঘণ্টা কমাতে আবেদন করতে পারেন, যা সংস্থাগুলিকে নমনীয় কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে।
ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী Nmbrs-এ চিফ পিপল অফিসার মারিকে পেপার্স বলেন, কাজের সময়ের ফাঁকা মুহূর্তে সৃজনশীলতা বাড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, কুকুরের সঙ্গে হাঁটতে গিয়ে তিনি নতুন আইডিয়া পেতে পারেন, যা কোম্পানির উদ্ভাবনী প্রকল্পে সহায়তা করে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, চার‑দিনের কর্মসপ্তাহের প্রয়োগ কর্মচারীর সন্তুষ্টি বাড়িয়ে টার্নওভার কমায় এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয়তা বৃদ্ধি করে। গবেষণা দেখায়, স্বল্প সময়ে উচ্চমানের কাজ সম্পন্ন করা উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে পারে, বিশেষ করে সৃজনশীল ও প্রযুক্তি ভিত্তিক শিল্পে।
অবশ্যই, সব সেক্টরে এই মডেল সমানভাবে কাজ করবে না। উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সেবা মতো ক্ষেত্রগুলোতে শিফট সিস্টেম ও অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন হতে পারে, যা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই নীতি নির্ধারকদের জন্য ক্ষেত্রভিত্তিক সমন্বয় প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, নেদারল্যান্ডে চার‑দিনের কর্মসপ্তাহের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি কর্মচারীর কল্যাণ ও সংস্থার প্রতিযোগিতামূলকতা উভয়েরই ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে, সংস্কৃতি পরিবর্তন, সেক্টরভিত্তিক চ্যালেঞ্জ এবং সরকারি নীতির সমর্থন এই মডেলকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



