স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা মানবজাতির সর্বজনীন লক্ষ্য, তবে দায়িত্বশীল শাসন না থাকলে এই স্বপ্নের পূর্ণতা সীমিত থাকে, এমন বিশ্লেষণ সাম্প্রতিক একটি প্রবন্ধে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রবন্ধটি উল্লেখ করে যে স্বাধীনতা মানে আত্মশাসন, আর আত্মশাসন মানে নাগরিকের দায়িত্ব গ্রহণের সক্ষমতা। দায়িত্বের অভাব বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থতা স্বাধীনতাকে কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ করে রাখে।
ইতিহাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, বহু অঞ্চল কাগজে স্বাধীনতা অর্জন করলেও বাস্তবে তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি। উপমহাদেশের কিছু জনপদে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বারবার জাগ্রত হয়েছে, তবে কাঠামোগত পরিবর্তন ও ক্ষমতার পরিবর্তনের পরেও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন অর্জিত হয়নি। এই পরিস্থিতি প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে বাহ্যিক পরিবর্তন ও নতুন আশার উদ্ভব সত্ত্বেও দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা না থাকলে স্বাধীনতার গভীর অনুভূতি অব্যাহত থাকে না।
প্রবন্ধটি জোর দেয় যে দায়িত্বের প্রতি অনীহা বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থতা স্বাধীনতাকে কেবল নীতিগত স্তরে সীমাবদ্ধ করে। এটি উল্লেখ করে যে কিছু সমাজে কথার রাজত্ব, গলাবাজি ও বিতর্কের মাধ্যমে শক্তি অর্জনের প্রবণতা দেখা যায়, তবে বাস্তব কর্মে এই কথার ফাঁক বড়। ঐতিহাসিকভাবে, কবি জীবনানন্দ দাশের মাতা যে উক্তি দিয়েছিলেন—”কথায় নয়, কাজে বড় হওয়া দরকার”—এর প্রাসঙ্গিকতা আজও প্রাসঙ্গিক বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাধীনতার বাস্তবায়ন তিনটি মূল উপাদানের ওপর নির্ভরশীল বলে বিশ্লেষণটি উপসংহারে পৌঁছেছে: দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং ইতিহাসের প্রতি সম্মান। এই তিনটি উপাদানের যেকোনোটি দুর্বল হলে স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রবন্ধে উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে যে দুর্বল প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক দায়িত্বের ঘাটতি স্বাধীনতার পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং ফলস্বরূপ বহু জনপদের ট্র্যাজেডি ঘটেছে।
স্বাধীনতার স্বপ্নের মূল্য যত বেশি, তার পথে চ্যালেঞ্জ ততই কঠিন হয়, এই ধারণা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় প্রমাণিত হয়েছে। স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হওয়া সমাজগুলো প্রায়শই কঠোর পরিশ্রম, নীতি-নিয়মের প্রতি আনুগত্য এবং ঐতিহাসিক শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছে। অন্যদিকে, দায়িত্বের অভাবের ফলে স্বপ্নের পথে অগ্রগতি থেমে যায় এবং ফলস্বরূপ সামাজিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অশান্তি দেখা দেয়।
প্রবন্ধটি শেষাংশে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করে যে দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা গড়ে তোলা, প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ করা স্বাধীনতার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি। এই দিকগুলোতে অগ্রগতি না হলে স্বাধীনতার স্বপ্ন কেবল আদর্শে রয়ে যাবে, বাস্তবে তা অর্জন করা কঠিন হবে। বিশ্লেষণটি শেষ করে বলা হয়েছে যে স্বাধীনতার পথে চলা সকলের জন্য দায়িত্বের সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপই একমাত্র সঠিক দিকনির্দেশনা।



