18 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনলরি প্যাট্রিক, এনবিসি-র 'টেলস অব ওয়েলস ফারগো' শোয় অভিনেত্রী, ৯২ বছর বয়সে...

লরি প্যাট্রিক, এনবিসি-র ‘টেলস অব ওয়েলস ফারগো’ শোয় অভিনেত্রী, ৯২ বছর বয়সে পরলোক গমন

লরি প্যাট্রিক ২৬ জানুয়ারি গেটিসবার্গ, পেনসিলভানিয়ায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ৯২ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন, তার মৃত্যু একটি প্রকাশক সংস্থা জানিয়ে দেয়। প্যাট্রিকের ক্যারিয়ার এনবিসি-র জনপ্রিয় ওয়েস্টার্ন সিরিজ “টেলস অব ওয়েলস ফারগো”-তে প্রধান ভূমিকা দিয়ে শুরু হয়।

এনবিসি-র ছয় নম্বর সিজনে তিনি টিনা স্বেনসন নামের স্কুল শিক্ষক চরিত্রে ১৫টি পর্বে উপস্থিত ছিলেন। তার চরিত্রের পরিবার—বোন মেরি জেন স্যান্ডার্স এবং বিধবা মা ওভি (ভর্জিনিয়া ক্রিস্টিন) — সান ফ্রান্সিসকোর একটি রাঞ্চে বসবাস করত, যা শোয়ের নায়ক জিম হার্ডির রাঞ্চের পাশে অবস্থিত ছিল। এই সময় শোটি এক ঘণ্টা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছিল।

প্যাট্রিকের ব্যক্তিগত জীবনও নজরে আসে; তিনি ডিজনি-স্টার ডিন জোন্সের সঙ্গে ৪২ বছর ধরে বিবাহিত ছিলেন। জোন্স “দ্যাট ডার্ন ক্যাট!”, “দ্য লাভ বাগ” এবং “দ্য শ্যাগি ডি.এ.” সহ বহু ক্লাসিক ডিজনি পারিবারিক ছবিতে কাজ করেছেন। তিনি ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পার্কিনসন রোগে আক্রান্ত হয়ে ৮৪ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।

লরি প্যাট্রিকের প্রথম স্বামী ছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক হার্লান এলিসন, যাঁর সঙ্গে ১৯৬৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তিনি এলিসনের পাঁচজন স্ত্রীর মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। তার এই সংযোগটি তার জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

১৯৬১ সালে ইউনিভার্সাল-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্যাট্রিক “দ্য লোরেটা ইয়ং শো”-তে একটি পর্বে উপস্থিত হন। এরপরই তাকে এনবিসি-র “টেলস অব ওয়েলস ফারগো”-তে টিনা স্বেনসন চরিত্রে নিয়োগ দেয়া হয়। এই ভূমিকা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।

প্যাট্রিকের জন্ম ৮ এপ্রিল ১৯৩৩ সালে বেকলি, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায়। তিনি ওক হিল হাই স্কুল থেকে স্নাতক হন এবং ডেট্রয়েট ও নিউ ইয়র্কে মডেলিং কাজ শুরু করেন। মডেলিং ক্যারিয়ার তাকে এনবিসি গেম শো “স্প্লিট পার্সোনালিটি”-তে কাজ করার সুযোগ এনে দেয়, যা লস এঞ্জেলেসে তার স্থানান্তরের সূচনা করে।

অভিনয় জগতে তার পদচারণা বিস্তৃত ছিল। তিনি “ওয়াগন ট্রেন”, “ডক্টর কিলডেয়ার”, “বোনানজা”, “দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব ওজি অ্যান্ড হ্যারিয়েট”, “দ্য ম্যানি লাভস অব ডোবি গিলিস”, “ইটস এ ম্যান’স ওয়ার্ল্ড”, “জেনারেল ইলেকট্রিক থিয়েটার” এবং “লারামি” সহ বহু জনপ্রিয় সিরিজে কাজ করেছেন। এই ধারাবাহিক উপস্থিতি তাকে টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ করে তুলেছিল।

চলচ্চিত্রে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৪ সালে “সার্ফ পার্টি” এবং ১৯৬৭ সালে “হাউ টু সাকসিড ইন বিজনেস উইদাউট রিয়ালি ট্রাইং” ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। একই বছর তিনি “বোনানজা”-এর একটি পর্বে উপস্থিত হন এবং শোয়ের জন্য কিছু লেখার কাজও সম্পন্ন করেন।

১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে প্যাট্রিক ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে সরে যান, তবে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জন্য লেখালেখি চালিয়ে যান। তিনি স্ক্রিপ্ট রাইটিং এবং গল্পের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা তার সৃজনশীল দক্ষতার আরেকটি দিক প্রকাশ করে।

অবসর জীবনে তিনি গেটিসবার্গে বসবাস করেন, যেখানে তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটাতেন। তার মৃত্যু সংবাদটি তার পরিবার ও শিল্পের সহকর্মীদের মধ্যে শোকের স্রোত নিয়ে আসে। প্যাট্রিকের দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ার এবং তার পরিবারিক বন্ধনের স্মৃতি এখনো অনুপ্রেরণার উৎস।

লরি প্যাট্রিকের জীবন ও কাজের পরিধি তার সময়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তিনি বহু দশক ধরে দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এবং তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মরণীয় থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – TV
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments