মিলান-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের আইস ড্যান্স প্রতিযোগিতায় ব্রিটিশ দম্পতি লিলাহ ফিয়ার ও লুইস গিবসন ত্রুটির ফলে সোনার পদক থেকে দূরে সরে গেছেন। ফিয়ার ও গিবসন ফ্রি ড্যান্সে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে হোঁচট খেয়ে শেষ পর্যন্ত সেভিং করতে পারেননি, ফলে তাদের মোট র্যাঙ্ক সপ্তমে নেমে আসে। এই ফলাফল ব্রিটেনের আইস স্কেটিং ইতিহাসে ৩২ বছর পর প্রথম অলিম্পিক পদক জয়ের স্বপ্নকে আরও পিছিয়ে দেয়, যা শেষবার দ্যাম জেইন টরভিল ও স্যার ক্রিস্টোফার ডিন ১৯৯৪ লিলেহ্যামার গেমসে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন।
ফ্রি ড্যান্সের দ্বিতীয় উপাদানে ফিয়ার হোঁচট খাওয়ার পরও তারা বাকি অংশটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেন, তবে ত্রুটির প্রভাব এত বড় ছিল যে স্কোরে তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। রিদম ড্যান্সে তারা চতুর্থ স্থানে শেষ করে ৮৫.৪৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল, যা তৃতীয় স্থানের কানাডিয়ান দম্পতি পাইপার গিলেস ও পল পয়ারের পেছনে ছিল। রিদম ড্যান্সের পর তারা স্কটল্যান্ড-থিমের ফ্রি ড্যান্সে শো-স্টপিং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ব্রিটেনের স্বর্ণের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য রাখে, তবে হোঁচটের ফলে তা সম্ভব হয়নি।
ফিয়ার এই ঘটনার পর প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “এটি ঘটতে পারে না বলে আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারছি না কীভাবে এটি ঘটল, এবং এ নিয়ে মনের মধ্যে বারবার পুনরাবৃত্তি করছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই অভিজ্ঞতা প্রক্রিয়া করতে সময় লাগবে। গিবসনও একইভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন, যদিও তার সরাসরি উক্তি মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
ফ্রান্সের গুইলোম সিজেরন ও লরেন্স ফৌরিয়ের বড্রি এই ইভেন্টে সোনার পদক জিতে নিলেন, তাদের রিদম ও ফ্রি ড্যান্স উভয় অংশে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করে। সিজেরন পূর্বে ২০২২ বেইজিং অলিম্পিকে গ্যাব্রিয়েল পাপারাকিসের সঙ্গে জোড়া হয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন; এইবার তিনি নতুন সঙ্গী ফৌরিয়ের বড্রির সঙ্গে দ্বিতীয় ধারাবাহিক স্বর্ণ অর্জন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন চক ও ইভান বেটস রূপালী পদক জিতেছেন, আর কানাডার পাইপার গিলেস ও পল পয়ার তামা পদক অর্জন করেন। ফলে ব্রিটিশ দম্পতির সপ্তম স্থানটি টিম জিবির জন্য এখনও কোনো পদক না জেতার দুঃখজনক পরিসংখ্যানের অংশ।
ফিয়ার ও গিবসন অলিম্পিকের আগে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম স্থানে ছিলেন, যা তাদেরকে এই ইভেন্টে সর্বোচ্চ প্রত্যাশা এনে দেয়। তবে রিদম ড্যান্সে চতুর্থ স্থান থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা, ত্রুটির ফলে শেষ পর্যন্ত তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়।
ব্রিটিশ স্কেটিং জগতের জন্য এই ফলাফলটি দীর্ঘ সময়ের পর আবারও স্বর্ণের স্বপ্নকে দূরে সরিয়ে দেয়। দ্যাম জেইন টরভিল ও স্যার ক্রিস্টোফার ডিনের ১৯৯৪ সালের ব্রোঞ্জের পর থেকে ব্রিটেনের আইস ড্যান্সে কোনো অলিম্পিক পদক নেই। টিম জিবি এখনো কোনো পদক না জেতার অবস্থায় রয়েছে, যা এই গ্রীষ্মের গেমসের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ফ্রি ড্যান্সে হোঁচটের পরেও ফিয়ার ও গিবসন স্কেটিং জগতের মধ্যে তাদের উচ্চমানের পারফরম্যান্সের জন্য প্রশংসা পেয়েছেন। তাদের স্কোরিং ও উপাদানগুলো এখনও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উচ্চ মূল্যায়ন পেয়েছে, তবে এক মুহূর্তের ত্রুটি পুরো ফলাফলকে বদলে দিয়েছে।
এই অলিম্পিকের পর ব্রিটিশ স্কেটিং সংস্থা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুনরায় পদক জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। ফিয়ার ও গিবসনও এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে আগামী সিজনে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রস্তুতি নিতে পারেন।
মিলান-কোর্টিনার আইস ড্যান্স ইভেন্টে মোট আটটি দম্পতি অংশগ্রহণ করেছিল, যেখানে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যথাক্রমে স্বর্ণ, রূপালী ও তামা পদক অর্জন করে শীর্ষে বসে। ব্রিটেনের দম্পতি যদিও শেষ পর্যন্ত সপ্তম স্থানে শেষ করেছে, তবু তাদের পারফরম্যান্সের গুণগত মান ও কৌশলগত দিক থেকে এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত।
এই ফলাফলটি টিম জিবির জন্য একটি কঠিন মুহূর্ত, তবে ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।



