প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলা ১-০ গোলে ব্রাইটনকে পরাজিত করে। শেষের চার মিনিটে টাইরোন মিংসের হেডার, জ্যাক হিনশেলউডের স্পর্শে গন্তব্যে পৌঁছে, ফলাফল নির্ধারিত হয়। এই জয়ের মাধ্যমে অ্যাস্টন ভিলা ৫০ পয়েন্টের সীমা অতিক্রম করে, আর শূন্যে ১২ ম্যাচ বাকি।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে কার্লোস বালেবাকে রেড কার্ড দেখানো হয়, ফলে জেমস মিলনার ৬৫৩তম প্রিমিয়ার লিগ উপস্থিতি অর্জন করেন। তিনি ক্যার্লোসের পরিবর্তে মাঠে নামেন এবং ভক্তদের উল্লাসে স্বাগত পান। এই উপস্থিতি গ্যারেট ব্যারির রেকর্ডের সমান, যা ইংলিশ ফুটবলে দীর্ঘস্থায়ী মাইলফলক।
মিলনারের পরিবর্তে প্রবেশের পরেও ব্রাইটন বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। ফেরদি কাদিওগলু একটি শট ক্রসবারে আঘাত করে, আর মিলনারই এমি মার্টিনেজের বিরুদ্ধে বক্রতা সহ একটি শট মারেন, তবে দুটোই গোলের পরিবর্তে রক্ষা পায়।
অ্যাস্টন ভিলার কোচ উনাই এমেরি গোলের পর কোনো দৃশ্যমান রাগ প্রকাশ না করলেও, জয় এবং ৫০ পয়েন্ট অর্জনের আনন্দ স্পষ্ট ছিল। তিনি দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষজনক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, যদিও শেষের মুহূর্তে গোলের জন্য কিছুটা অশান্তি দেখা যায়।
ব্রাইটনের জন্য এই পরাজয় মানে ধারাবাহিক দুর্বলতা। দলটি এখন পর্যন্ত ১৩টি লিগ ম্যাচে মাত্র একবার জয় পেয়েছে, এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে ঘরে হারার পর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। কিছু ভক্ত স্টেডিয়ামে কোচ ফ্যাবিয়ান হুরজেলারের বিরুদ্ধে গান গেয়ে তার উপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।
হুরজেলার ম্যাচের পর মিডিয়ায় জানিয়েছেন, “আমাদের আবার মাথা উঁচু করে পরবর্তী সুযোগের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ফলাফলের দায়িত্ব আমাদের, বিশেষ করে আমার। বর্তমান পরিস্থিতি জানি, তাই একসাথে থেকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।” তিনি দলের মনোভাব ও দায়িত্বশীলতা তুলে ধরেছেন।
ব্রাইটনের কোচের অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। টটেনহ্যামের কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্কের প্রস্থান সাম্প্রতিক সময়ে ম্যানেজারদের দুর্বলতা স্মরণ করিয়ে দেয়, এবং হুরজেলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে তিনি দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য মিলনারকে রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করেছেন।
অ্যাস্টন ভিলার দলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়। ক্যার্লোস বালেবা রেড কার্ডের পরে ২২ মিনিটে পরিবর্তিত হয়ে মিলনারের সঙ্গে মাঠে নামেন, যা ভক্তদের কাছ থেকে উষ্ণ স্বাগত পায়। দলের পারফরম্যান্সে এই পরিবর্তনগুলো ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পরবর্তী ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলা তাদের শিকড় বজায় রাখতে এবং পয়েন্ট বাড়াতে চায়, আর ব্রাইটন পুনরুদ্ধার করে লিগে তাদের অবস্থান রক্ষা করার চেষ্টা করবে। উভয় দলই শীঘ্রই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, যেখানে এই ফলাফলগুলো তাদের আত্মবিশ্বাস ও কৌশলে প্রভাব ফেলবে।



