জাতীয় নাগরিক দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতের সময় সেনা সদস্যদের জেরায় প্রশ্নের মুখে পড়েন; একই সময়ে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি চলছে।
সেনা সদস্যরা জেরার গেটের কাছে দাঁড়িয়ে হাসনাতকে থামিয়ে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সামান্য বিরক্তি প্রকাশ করেন, তবে কোনো শারীরিক সংঘর্ষের রিপোর্ট নেই।
এই ঘটনার পরের দিন, বৃহস্পতিবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের রাজনৈতিক সূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দল ও সংগঠন ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তীব্র প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল।
এদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাত ২টা ৪ মিনিটে একটি পোস্ট প্রকাশ করে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্কতা জানান। তিনি ভোটারদের সঠিক তথ্য গ্রহণে এবং অনির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানান।
বুধবার বিকেলে, হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে ফেসবুক লাইভে উপস্থিত হয়ে কালো টাকার সরবরাহ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ভোটের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে উপস্থিতি বজায় রাখবে এবং কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
হাসনাতের মতে, যারা কালো টাকা নিয়ে ভোটের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায়, তাদের সঙ্গে দেখা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের কাছে জানাতে হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে বলেন, এমন কোনো প্রচেষ্টা দ্রুত থামানো হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কালো টাকা নিয়ে যারা ভোটে প্রবেশের চেষ্টা করবে, তাদের পরিণতি কঠোরভাবে দেখানো হবে এবং এটি শেষ সতর্কবার্তা। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি অবৈধ আর্থিক প্রভাবকে দমন করার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন।
হাসনাত সব মোড়, কেন্দ্র, গলি ও পাড়ায় উপস্থিতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোটের সময় প্রতিটি স্থানেই নজরদারি বাড়িয়ে অবৈধ অর্থের প্রবাহ রোধ করা সম্ভব হবে।
দেবিদ্বারের জাফরগঞ্জ, বরকামতা, সুলতানপুর, রাজামেহার ও ফাতেহাবাদ ইউনিয়নে অর্থ প্রবেশের চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব এলাকায় যদি কোনো ধরণের অর্থ ছড়িয়ে পড়ে, তা দ্রুত প্রতিহত করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চেয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোট একটি পবিত্র আমানত এবং তা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা যাবে না। তিনি ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার স্বীকার করেন, তবে ভয়ভীতি, পেশিশক্তি বা আর্থিক প্রভাবের মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদেরও কালো টাকার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করার আহ্বান জানান। তিনি ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, সমাজে সঠিক তথ্য ও নৈতিকতা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।
নাহিদ ইসলাম এবং হাসনাতের উভয়ই ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে, ভোটের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেনের তদন্ত শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাগুলি এবং উক্তিগুলি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সতর্কতা ও সজাগতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সফলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।



