গত রাতে নটিংহাম ফরেস্ট এবং উলভসের মধ্যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি শূন্য-শূন্য সমতার সঙ্গে শেষ হয়েছে। দু’দলই ৯০ মিনিটের খেলায় কোনো গোল করতে পারেনি, যদিও নটিংহাম ফরেস্টের শুটিং সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।
নটিংহাম ফরেস্ট মোট ৩৫ বার শট চালায়, যার মধ্যে মাত্র কয়েকটি জোসে সা’কে চ্যালেঞ্জ করে। শটের পরিমাণের বিপরীতে গোল না হওয়ায় ভক্তদের ধৈর্য পরীক্ষা হয়। দলটি শেষ মুহূর্তে গোলের সুযোগ পেতে ব্যর্থ হয়।
ফুল-টাইমের সিগনালে স্টেডিয়ামের ভক্তরা সীন ডাইচের দিকে তীব্র নিন্দা ও তালি দেয়। মালিক ইভ্যাঞ্জেলস মারিনাকিসের মুখেও অসন্তোষের ছায়া দেখা যায়। ভক্তদের এই প্রতিক্রিয়া দলের পারফরম্যান্সের প্রতি অসন্তোষের প্রকাশ।
এই ফলাফলের ফলে নটিংহাম ফরেস্ট লিগ টেবিলে ১৮তম স্থানে থাকা ওয়েস্ট হ্যামের এক পয়েন্ট উপরে উঠে। তিনটি পয়েন্টের সুযোগ হারিয়ে দলটি অবস্থান বজায় রাখতে পারেনি।
প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি শট চালিয়ে কোনো গোল না করার রেকর্ড এই ম্যাচে তৈরি হয়েছে। শুটিংয়ের পরিমাণের তুলনায় গোলের অনুপস্থিতি বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ডাইচের সিজনে ইতিমধ্যে তৃতীয় কোচ পরিবর্তনের পর চতুর্থ কোচের সম্ভাবনা নিয়ে অনুমান তীব্র হয়েছে। তবে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
ডাইচের মতে, মালিকের কাছ থেকে তিনি সম্মান পেয়ে আছেন এবং তিনি ক্লাবের প্রতি তার নিষ্ঠা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পরিবর্তনের দাবি থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত মালিকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
ডাইচের কাজের মূল লক্ষ্য হল অ্যানজে পোস্টেকোগলোর সময়ে সৃষ্ট সমস্যাগুলি সমাধান করা, নতুন কৌশল প্রয়োগ নয়। পূর্বে বার্নলিতে তিনি ছয়টি ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছেন, তবে নটিংহাম ফরেস্টে পরিস্থিতি ভিন্ন।
প্রশিক্ষণের সময় ডাইচ দুইজন উইংার ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা গড়ে তোলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তা ফলপ্রসূ হয়নি। দলের আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও অনেকবার গোলের সুযোগ হারিয়ে যায়।
শুক্রবারের লিডসের পরাজয়ের পর স্টেডিয়ামে উত্তেজনা বাড়ে, এবং ভক্তরা দ্রুত ফলাফল দেখতে চায়। এই চাপে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে।
লোরেঞ্জো লুক্কা তার হোম ডেবিউতে প্রথমার্ধে ছয়জনের একের ওপর এক কন্ট্রা-আক্রমণে অংশ নেন, যা মালিকের অসন্তোষের কারণ হয়। মারিনাকিস লুক্কার এই খেলায় অংশগ্রহণকে সমালোচনা করেন।
পরবর্তী ম্যাচে নটিংহাম ফরেস্টের লক্ষ্য হবে শুটিংকে গোলের রূপান্তর করা এবং লিগ টেবিলে অবস্থান উন্নত করা। কোচ ডাইচের কৌশলগত সমন্বয় এবং খেলোয়াড়দের মনোভাবই ফলাফল নির্ধারণ করবে।



