মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে বিতর্কের মাঝখানে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-মালিক সির জিম র্যাটক্লিফের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিরোধী নেতা দুজনই ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। র্যাটক্লিফ স্কাই নিউজে উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যকে অভিবাসীদের দ্বারা ‘কলোনাইজড’ বলা হচ্ছে এবং তিনি সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে ‘অনেকটা দয়ালু’ হওয়া দরকার বলে ইঙ্গিত দেন।
র্যাটক্লিফের বক্তব্যে তিনি যুক্তরাজ্যের সামাজিক কল্যাণের ওপর চাপের কথা তুলে ধরেন, বলেন যে ছয় মিলিয়ন মানুষ বেনিফিটে নির্ভরশীল এবং বিশাল সংখ্যক অভিবাসী প্রবেশের ফলে অর্থনীতি ভারী হয়ে যাচ্ছে। তিনি যুক্তি দেন, ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা ৫৮ মিলিয়ন ছিল, আর এখন তা প্রায় ৭০ মিলিয়ন, অর্থাৎ ১২ মিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তিনি ‘অতিরিক্ত খরচ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই মন্তব্যের পর, লেবার পার্টির নেতা সির কীর স্টারমার তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি র্যাটক্লিফের কথা ‘অপমানজনক এবং ভুল’ বলে উল্লেখ করে যুক্তরাজ্যকে ‘গর্বিত, সহনশীল ও বৈচিত্র্যময়’ দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং র্যাটক্লিফকে তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানান। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, এমন মন্তব্য জাতীয় ঐক্যকে ক্ষুণ্ণ করে এবং বিভাজনের সুযোগ তৈরি করে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও র্যাটক্লিফের মন্তব্যের বিরোধিতা করে একই রকম দাবি জানায়। সরকারি মুখপাত্র র্যাটক্লিফকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, উল্লেখ করেন যে তার বক্তব্য ‘দেশকে ভাগ করার ইচ্ছুকদের হাতে সুযোগ দিচ্ছে’। এই মন্তব্যের ফলে সরকারী স্তরে র্যাটক্লিফের বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা ৬৯.৪ মিলিয়ন হিসেবে অনুমান করা হয়েছে, যা ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ের ৬৬.৭ মিলিয়নের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। যদিও র্যাটক্লিফের উল্লেখিত সংখ্যা ও অফিসিয়াল পরিসংখ্যানের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে, তবে উভয়ই জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা নির্দেশ করে।
র্যাটক্লিফের মন্তব্যের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মুসলিম সমর্থক ক্লাবেরও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ক্লাবের প্রতিনিধিরা বলেন, এমন রেটোরিক্স ক্লাবের মূল্যবোধের বিরোধী এবং সমন্বয়মূলক পরিবেশকে ক্ষতি করে। একই সঙ্গে, অ্যান্টি-রেসিজম শিক্ষা সংস্থা শো রেসিজম দ্য রেড কার্ড এবং কিক ইট আউটও র্যাটক্লিফের মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদী এবং বিভাজনমূলক’ বলে নিন্দা করেছে।
বিবাদে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি এবং সামাজিক কল্যাণের ব্যয় নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। র্যাটক্লিফের মতামতকে সমর্থনকারী কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীও আছে, তবে সরকারী ও বিরোধী পক্ষের সমন্বিত আহ্বান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, এমন প্রকাশনা রাজনৈতিক সংলাপকে তীব্র করে তুলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, র্যাটক্লিফের মন্তব্যের ফলে সরকারী দল ও বিরোধী দলের মধ্যে ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে তীব্র আলোচনা হবে, যা আসন্ন পার্লামেন্টের সেশনকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে, শ্রমিকদের কল্যাণ ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে পার্টিগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসের পরবর্তী পদক্ষেপে র্যাটক্লিফকে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে, অথবা মিডিয়ার মাধ্যমে তার মন্তব্যের পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করা হতে পারে। একই সঙ্গে, লেবার পার্টি র্যাটক্লিফের মন্তব্যকে রাজনৈতিক দায়িত্বের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে, ভবিষ্যতে অনুরূপ রেটোরিক্সের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারে।
এই ঘটনার ফলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও পাবলিক রিলেশনস টিমও সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে জানা যায়। ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা র্যাটক্লিফের মন্তব্যকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করে, ক্লাবের সামাজিক দায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, র্যাটক্লিফের ‘কলোনাইজড’ মন্তব্যের ফলে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি, সামাজিক কল্যাণ এবং রাজনৈতিক সংলাপের ওপর নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই ক্ষমা ও দায়িত্ব স্বীকারের আহ্বান জানিয়ে, দেশের ঐক্য ও সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে এই বিতর্ক কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে।



