17 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনসারাহ ফার্গুসন জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে দেনা পরামর্শ চেয়েছিলেন, জেলখানায় থাকাকালীন

সারাহ ফার্গুসন জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে দেনা পরামর্শ চেয়েছিলেন, জেলখানায় থাকাকালীন

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ডাচেস অব ইয়র্ক, সারাহ ফার্গুসন ২০০৯ সালের গ্রীষ্মে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ইমেইল বিনিময় করেন, যখন এপস্টেইন নাবালিকার যৌন শোষণের অভিযোগে ফ্লোরিডা জেলখানায় ছিলেন। ফার্গুসন তার প্রায় ছয় মিলিয়ন পাউন্ডের ঋণ সমস্যার সমাধান চেয়ে এপস্টেইনের পরামর্শ চান। এই ইমেইলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগের মাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত চিঠিপত্রে দেখা যায়, ফার্গুসন তার আর্থিক সংকটের কারণে বিভিন্ন উপায় অনুসন্ধান করছিলেন, যার মধ্যে দুইজন ধনী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ এবং নিজের গয়না বিক্রি করার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি নিজের অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন এবং জীবনের কঠিনতা নিয়ে উদ্বেগের সুরে লিখেছেন।

ইমেইলে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলেছে এবং মৃত্যুকে সহজ বিকল্প হিসেবে ভাবতে বাধ্য করেছে। যদিও তিনি এই মর্মে লিখেছেন, তবে তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্যের অনুরোধের উত্তর পাওয়া যায়নি।

২০০৯ সালে ফার্গুসন এখনও ডাচেস অব ইয়র্কের উপাধি বহন করছিলেন, যদিও তিনি প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসরের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন করেছিলেন। একই সময়ে তার ওজন কমানোর প্রচারমূলক চুক্তি, যা তাকে উল্লেখযোগ্য আয় দিত, তা শেষ হয়ে গিয়েছিল।

ঋণ সমস্যার তীব্রতা তাকে এমন অবস্থায় নিয়ে আসে যেখানে যেকোনো সহায়তা প্রদানকারী তার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারত। এপস্টেইন, যিনি তখনই জেলে ছিলেন, তার আর্থিক সমস্যার বিষয়ে জানার পর সরাসরি জড়িত হয়ে ওঠেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে লন্ডনে বসবাসকারী জার্মান ব্যবসায়ী ডেভিড স্টার্নের দীর্ঘমেয়াদী চিঠিপত্রে ফার্গুসনের আর্থিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্টার্নের রয়্যাল পরিবারে ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে এবং তিনি এপস্টেইনকে “বস” বলে উল্লেখ করেছেন।

স্টার্ন ফার্গুসনের অবস্থানকে মধ্যপ্রাচ্যে উল্লেখ করে সতর্কতা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি বিশ্বাস করেন যে তিনি আবার কেউ তাকে শোষণ করতে পারে। তার এই মন্তব্যে ফার্গুসনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দু’জনের কথোপকথনে অশ্রদ্ধার সুর দেখা যায়; এপস্টেইন একবার লিখেছিলেন যে, “সেপ্টেম্বরের দিকে গিয়ে বিষয়টি গম্ভীরভাবে নেওয়া দরকার, যেন বিশ্বাসঘাতকী বান্ধবীর মতো কঠোর হওয়া দরকার।” স্টার্নও এধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে উত্তর দেন।

ফার্গুসন ১৩ জুলাই ২০০৯ তারিখে এপস্টেইনকে একটি ইমেইল পাঠান, যেখানে তিনি তাকে “সত্যিকারের বন্ধু” বলে সম্বোধন করে তার আর্থিক সমস্যার সমাধানে পরামর্শ চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্রিটিশ ধনী জোন ক্যাডওয়েল, যিনি ফোনস৪ইউ প্রতিষ্ঠা করেছেন, তার ঋণ মাফ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ক্যাডওয়েলের প্রস্তাবটি ফার্গুসনের ঋণ দায়িত্ব হ্রাসের একটি সম্ভাব্য উপায় হিসেবে উঠে আসে, তবে এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগের ফলে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে ঘটবে তা স্পষ্ট নয়।

ফার্গুসন এই বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, এবং তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে প্রকাশিত ইমেইলগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি তার আর্থিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন উপায় অনুসন্ধান করছিলেন, যার মধ্যে এপস্টেইনের মত বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ যে ইমেইলগুলো প্রকাশ করেছে, সেগুলো ফার্গুসনের কঠিন আর্থিক অবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরে এবং দেখায় যে, তিনি জেলখানায় থাকা এপস্টেইনের কাছ থেকে পরামর্শ চেয়ে নিজের ঋণ সমস্যার সমাধান খুঁজছিলেন। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সতর্কতা হিসেবে কাজ করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments