বাড কোর্ট, ‘হারল্ড অ্যান্ড মড’ ছবির সহ-নায়ক, কনেকটিকটে দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৭৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যু সংবাদটি শিল্পজগতের এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
কোর্টের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৯ মার্চ নিউ রোশেল, নিউ ইয়র্কে ওয়াল্টার এডওয়ার্ড কক্স নামে হয়। শৈশব থেকেই তিনি নাট্যকলা ও অভিনয়ে গভীর আগ্রহ গড়ে তোলেন। এই আগ্রহই তাকে পরবর্তীতে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশের পথ দেখায়।
যুবক কোর্ট নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের টিশ স্কুলে স্বল্প সময়ের জন্য ভর্তি হন, তবে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এসে স্টেলা অ্যাডলার থেকে অভিনয় প্রশিক্ষণ নেন। অ্যাডলারের তত্ত্বে তিনি চরিত্রের গভীরতা ও স্বতন্ত্রতা শিখে নেন, যা পরবর্তীতে তার অভিনয়শৈলীতে প্রতিফলিত হয়।
১৯৬০-এর দশকে তিনি স্কুলের ক্লাস বাদ দিয়ে বারবার নিউ ইয়র্কের থিয়েটার গ্যালারিতে ‘ফানি গার্ল’ মঞ্চ দেখতেন, যেখানে বারবারা স্ট্রেইস্যান্ডের অভিনয় ছিল কেন্দ্রবিন্দু। সেই সময় তিনি বারবারার বোন রোজলিন কাইন্ডের সঙ্গে মঞ্চের দরজায় অপেক্ষা করতেন এবং প্রতিটি পারফরম্যান্সে উপস্থিত থাকতেন। এই অভিজ্ঞতা তার নাট্যপ্রেমকে আরও দৃঢ় করে।
চলচ্চিত্রে তার প্রথম বড় সুযোগ আসে রবার্ট অল্টম্যানের ‘M*A*S*H’ ছবিতে সমর্থক চরিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে। অল্টম্যানের সঙ্গে কাজ করার পর তিনি ‘ব্রুস্টার ম্যাক্লাউড’ ছবিতে প্রধান ভূমিকা পান, যা তাকে চলচ্চিত্র জগতে পরিচিত করে।
১৯৭১ সালে ‘হারল্ড অ্যান্ড মড’ ছবিতে তিনি হারল্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন এবং রুথ গর্ডনকে মডের ভূমিকায় দেখেন। এই কালো-সাদা কমেডি চলচ্চিত্রে তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে এবং দর্শকদের হৃদয় জয় করে। কোর্টের চরিত্রের স্বতন্ত্রতা ও হাস্যরসের মিশ্রণ ছবিটিকে আজও ক্লাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়।
কোর্ট নিজে এই ছবির সাফল্য সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন যে, স্ক্রিপ্ট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন এটি সময়ের চিরস্থায়ী ক্লাসিক হবে। তবে স্টুডিও ছবির প্রচারে দ্বিধায় পড়ে, ফলে পোস্টারের নকশা সাদামাটা কালো রঙে ব্লক অক্ষরে তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মুখে মুখে প্রচারই ছবিটিকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দেয় এবং প্যারামাউন্টকে পুনরায় মুক্তি দিতে বাধ্য করে।
বছরের পর বছর কোর্ট বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যান, তবে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতি ঘটতে থাকে। দীর্ঘ সময়ের অসুস্থতার পর তিনি কনেকটিকটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রিয় বন্ধু ও প্রযোজক ডোরিয়ান হ্যানাওয়ে মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বাড কোর্টের মৃত্যু শিল্পজগতের এক বড় ক্ষতি, তবে তার অভিনয়কলা ও নাট্যপ্রেমের উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে। ‘হারল্ড অ্যান্ড মড’ এবং তার অন্যান্য কাজের মাধ্যমে তিনি আজও দর্শকদের হৃদয়ে জীবিত।



