বিএনপি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বসন্ধ্যায় জামায়াত-এ-ইসলামির বিরুদ্ধে ১২৭টি অভিযোগ উত্থাপন করেছে। বুধবার রাতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বহু বছর পর দেশে আবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অংশ নিতে হবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পর বহু নেতা ও কর্মী প্রাণ দিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই‑আগস্টেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জয়লাভের আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক, তবে তা অর্জনের জন্য অনৈতিক বা অবৈধ পদ্ধতি গ্রহণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। সারা দিন সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রায় ১২৭টি অভিযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে যেগুলো এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিএনপি দলটি উল্লেখ করেছে, সাইয়দপুর বিমানবন্দরে এক জামায়াত-এ-ইসলামি নেতার কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। দলটি দাবি করে যে এই অর্থ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আয়কর রিটার্নে দেখা যায় তার বার্ষিক আয় চার লাখ টাকার কিছু বেশি, যা ব্যবসায়িক আয় হিসেবে বিবেচিত হয় না। নজরুল ইসলাম খান এই ধরনের আচরণকে নৈতিকতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
নির্বাচন কমিশনের সচিবের মন্তব্যের প্রসঙ্গে দলটি জানায়, পাঁচ লাখ বা পাঁচ কোটি টাকা বহন করা বিষয়টি নয়, এমন বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এবং গণমাধ্যমে ইসি সচিবের এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে বলে দলটি দাবি করে।
বিএনপি এই অভিযোগগুলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দলটি আশা করে, অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে এবং নির্বাচনের সময় কোনো অনিয়ম না ঘটে। একই সঙ্গে, দলটি সকল রাজনৈতিক শক্তিকে আহ্বান জানায়, নির্বাচনী লড়াইকে শান্তিপূর্ণ ও আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে।
এই অভিযোগের ফলে জামায়াত-এ-ইসলামি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের অভিযোগের প্রভাব নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন দুই প্রধান দলই সমানভাবে ভোটের জন্য লড়াই করছে। ভবিষ্যতে, অভিযোগের তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি উল্লেখ করেছে, অভিযোগের তালিকায় আর্থিক লেনদেন, অনৈতিক আচরণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত। দলটি দাবি করে, এই অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হবে এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবশেষে, দলটি নির্বাচনের আগে সকল পক্ষকে আহ্বান জানায়, স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক নীতিমালা মেনে চলতে। এই আহ্বানটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আস্থা জোরদার করতে সহায়ক হবে বলে দলটি বিশ্বাস প্রকাশ করেছে।



