এইচবিওর নতুন অনস্ক্রিপ্টেড কমেডি সিরিজ ‘Neighbors’ প্রথমবারের মতো শুক্রবার রাত ১১টায় সম্প্রচারিত হয়েছে। শোটি আধুনিক সমাজে প্রতিবেশী সম্পর্কের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি, যেখানে সামাজিক মিডিয়া, নজরদারি প্রযুক্তি এবং রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শোটি প্রকাশের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালে উত্থিত মতবিরোধ এবং কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ের বিচ্ছিন্নতা উভয়কেই উল্লেখযোগ্য প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করেছে।
সিরিজের সৃজনশীল দায়িত্ব হ্যারিসন ফিশম্যান এবং ডিলান রেডফোর্ডের ওপর। উভয়ই পূর্বে ডকুমেন্টারি এবং রিয়েলিটি শোতে কাজ করেছেন, তাই ‘Neighbors’ তেও বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে অপ্রস্তুত কথোপকথন ও পরিস্থিতি উপস্থাপন করা হয়েছে। শোটি কোনো স্ক্রিপ্ট ছাড়া রেকর্ড করা হয়েছে, ফলে অংশগ্রহণকারীদের স্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা সরাসরি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
প্রথম এপিসোডটি ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে রাত ১১টায় এইচবিওতে সম্প্রচারিত হয়। শোটি প্রতি সপ্তাহে একবার, শুক্রবার রাতে একই সময়ে সম্প্রচারিত হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে সিরিজটি এক সিজনে আটটি এপিসোড নিয়ে গঠিত, এবং প্রতিটি এপিসোডের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে।
‘Neighbors’ এর মূল থিমগুলো হল সামাজিক মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার, বাড়ি-পরিসরের নজরদারি প্রযুক্তি এবং রাজনৈতিক মতবিরোধের ফলে সৃষ্ট সামাজিক উত্তেজনা। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারীর সময় মানুষ কীভাবে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তা নিয়ে শোটি বিশদভাবে আলোচনা করে। প্রতিবেশী সম্পর্কের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শোটি দেখায় কীভাবে এই সব উপাদান একসাথে মিলিয়ে আধুনিক সমাজে নতুন ধরনের অস্বস্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
শোটি কমেডি ফরম্যাটে উপস্থাপিত হলেও, এতে স্পষ্ট দৃশ্য, অশ্লীলতা এবং যৌনতা সংক্রান্ত উপাদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিছু এপিসোডে অংশগ্রহণকারীদের অশ্লীল পোশাক ও নগ্নতা দেখা যায়, যা শোকে আরও চিত্তাকর্ষক ও বিতর্কিত করে তুলেছে। এছাড়া শোটি প্রায়শই উত্তেজনা বাড়াতে অতিরিক্ত নাটকীয়তা ও সেজে-সেজে দৃশ্য ব্যবহার করে, যা দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন সমালোচক শোকে অতিরিক্ত উত্তেজনা, অশ্লীলতা এবং বাস্তবতার চেয়ে নাটকীয়তার ওপর বেশি জোর দেওয়ার জন্য সমালোচনা করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে শোটি কখনো কখনো বাস্তব সমস্যার চেয়ে শক মানের দৃশ্যের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। তবু শোটি কিছু দিক থেকে সমাজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে, বিশেষ করে সামাজিক মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব সম্পর্কে।
দর্শকরা শোটি দেখার পর বিভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। কিছু দর্শক শোকে বাস্তবতা ও হাস্যরসের মিশ্রণ হিসেবে প্রশংসা করেন, আবার অন্যরা অতিরিক্ত অশ্লীলতা ও উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্যের কারণে অস্বস্তি বোধ করেন। শোটি সামাজিক সমস্যাগুলোকে হালকা মেজাজে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলেও, কিছু অংশে তা অতিরিক্ত তীব্র ও অস্বস্তিকর হতে পারে।
‘Neighbors’ এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি, তবে শোটি যদি দর্শকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়, তবে পরবর্তী সিজনে আরও গভীর বিশ্লেষণ ও নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হতে পারে। শোটি সামাজিক মিডিয়া, নজরদারি এবং রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে, এবং সম্ভবত আরও বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে দর্শকদের চিন্তা-উদ্রেক করবে।
শোটি দেখতে ইচ্ছুক দর্শকদের জন্য এটি একটি নতুন ধরনের রিয়েলিটি কমেডি, যা আধুনিক সমাজের অস্বস্তিকর দিকগুলোকে উন্মোচন করে। তবে শোয়ের অশ্লীলতা ও উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্যের কারণে, পরিবারিক পরিবেশে দেখার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। শেষ পর্যন্ত, ‘Neighbors’ আধুনিক সময়ের প্রতিবেশী সম্পর্কের জটিলতা ও সামাজিক পরিবর্তনের একটি চিত্র তুলে ধরে, যা দর্শকদের জন্য চিন্তা করার নতুন সুযোগ তৈরি করে।



